শাহারুল ইসলাম ফারদিন
মশার উপদ্রব থেকে যেন নিস্তার নেই যশোর পৌরবাসীর। দিনে-রাতে মশার জ্বালায় মরণদশা হয়েছে এই শহরের মানুষের। মশা নিয়ন্ত্রণের কী কোনো উপায় নেই ? নাকি স্বদিচ্ছার অভাব- প্রায়ই এমন আলোচনা শোনা যায় নাগরিকদের মুখে।
পৌরসভার পুরাতন কসবা কাজী পাড়ার আর এক বাসিন্দা সোহাগ হোসেন জানান, মশার উপদ্রব বেড়েছে। মশার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বাসাবাড়ি থেকে দোকানপাট, অফিস-আদালত সব জায়গায়ই মশার দৌরাত্ম্য। মশা থেকে বাঁচতে দিন-রাত কয়েল জ্বালিয়ে, ওষুধ ছিটিয়ে, মশারি টাঙিয়েও যেন নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। আশংকা করা হচ্ছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের।
যশোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ হোসেন বলেন, মশা নিধনে আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিন ওয়ার্ড ভিত্তিক মশা নিধনে ক্রাশ অভিযান চলে। বর্তমানে মশা নিধনের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরোও বলেন, অভিযানে মশার ডিম বা লার্ভা নষ্ট হয় মাত্র। তবে উড়ন্ত মশা পুনরায় ফিরে এসে ডিম পেড়ে বংশ বিস্তার করে। মশা নির্মূল করা সম্ভব না। আমরা স্প্রে করে দমন করে রাখি মাত্র।
যশোর পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গনি খান পলাশ বলেন, হঠাৎ মশার উপদ্রব একটু বেড়েছে। তবে সেটা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। মশক নিয়ন্ত্রণে আমাদের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। এছাড়াও কেউ অভিযোগ জানালে সেই এলাকায় স্প্রে করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ওষুধ আছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কাউন্সিলরদের মাঠে থেকে তদারকি করতে হবে এ কার্যক্রমে বলে তিনি জানান।
মশা নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে মশার ডিম বা লার্ভা নষ্ট হয় মাত্র। তবে উড়ন্ত মশা পুনরায় ফিরে এসে ডিম পেড়ে বংশ বিস্তার করে। মশা নির্মূল করা সম্ভব না। আমরা স্প্রে করে দমন করে রাখি মাত্র।— জায়েদ হোসেন, নির্বাহী কর্মকর্তা, যশোর পৌরসভা
এদিকে এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার প্রজননকাল। আবার কিউলেক্স মশার জন্ম হয় শুষ্ক মৌসুমে। তাই সারা বছরই মশক নিধন কার্যক্রম চালানো উচিত। মশক নিধন কার্যক্রমে কোনোভাবে অবহেলার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য সচেতন পৌরবাসীর।
জেলা কীটতত্ত্ববিদের মতে, শীতের শেষ দিকে ও গরমের শুরুর মাঝামাঝি সময়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে বাড়তে থাকে মশা। এ প্রজাতির মশাকে কিউলেক্স মশা বলা হয়। সাধারণত বিভিন্ন ডোবা-নালা, ড্রেন, ঝিল বা খালের দূষিত পানিতে কিউলেক্স মশার প্রজনন বেশি হয়। তবে কিউলেক্স মশার কামড়ে জায়গায় নখের আঁচড়ে প্রুরিগো সিমপ্লেক্স নামের অ্যালার্জিজনিত রোগ হয়। এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয় শিশুরা।
এদিকে গত বছর যশোরে ডেঙ্গুতে রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ বলেন, গত বছর (২০২৩ সালে) এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ২৪৬ জন রোগী। এর মধ্যে মৃত্যু বরণ করেণ ১৫ জন ও বাকি ২ হাজার ২৩১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। চলতি বছর (১ জানুয়ারি থেকে অধ্যবধি) এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ১৩ জন সকলেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ডেঙ্গুর আগাম সতর্কতা হিসাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে তাপমাত্রা একটু বেড়েছে তাই মশার উপদ্রবও বেড়েছে। সাধারণত ২৮ ডিগ্রি প্লাস মাইনাস বেশি তাপমাত্রা হলে মশার উপদ্রব বাড়ে। এখন তো তাপমাত্রা আরো বেশিই। সামনে বৃষ্টি হলে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার উপদ্রব বাড়বে। তাই পৌরসভাকে এখন থেকে সতর্ক হতে হবে। বৃষ্টি শুরু হলে নালা-নর্দমায় পানি চলাচল করলে মশা কমে যাবে। কিন্তু তখন বৃষ্টির জমে থাকা পানির জন্য এডিস মশা বাড়বে।
