খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের
ঢাকা অফিস
বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত রাজনৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শোক আর কৃতজ্ঞতার আবেগে ভাস্বর হয়ে তিনি বলেছেন, “যেখানে আমার মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে।”
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তারেক রহমান বলেন, তাঁর মা সারাজীবন মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। আজ সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার গভীরভাবে অনুভব করছেন তিনি।
তারেক রহমান লেখেন, “গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তাঁর অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও উপস্থিতি তাঁকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি। লক্ষ-লক্ষ মানুষের সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাঁকে আবেগাপ্লুত করেছে।
“তখনই অনুভব করেছি—তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না, অনেক দিক থেকেই তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা,”—লিখেছেন তারেক রহমান।
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগীদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি যেসব দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে, তাদের প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
শোকের এই মুহূর্তে তারেক রহমান স্মরণ করেন তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে। তিনি লেখেন,
“আজ এত মানুষের ভালোবাসায় মনে হচ্ছে—নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।”
মায়ের আদর্শ ও সংগ্রামের পথ অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন,
“একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—যে মানুষগুলোর ভালোবাসা ও বিশ্বাস আমার মাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শক্তি জুগিয়েছে, সেই মানুষদের জন্যই আমি তাঁর পথচলা এগিয়ে নিতে চাই।”
পোস্টের শেষাংশে তারেক রহমান মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ থেকেই জাতি শক্তি, ঐক্য ও দেশপ্রেমের প্রেরণা পাবে।
