নিজস্ব প্রতিবেদক
মুক্তিপণ দাবিতে ঢাকার মানিকগঞ্জ থেকে দুই বছর বয়সের শ্যালক রিহানকে অপহরণের পর ভগ্নিপতি (দুলাভাই) আবু বক্কার সিদ্দিক ফরিদ খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে ফরিদকে আটকও করেছে যশোরের পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় শ^শুর বাড়ি মানিকগঞ্জ থেকে শ্যালক রিহানকে চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যশোরে আসে ফরিদ। তাকে বেদম চাপা মারপিট করায় শিশুটিকে মঙ্গলবার মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী হিসেবে বাবা পরিচয় দিয়ে ফরিদ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। নিহত রিহান মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার চরকাটালি গ্রামের ওমর আলী বাবুর্চির ছেলে। আটক দুলাভাই ফরিদ যশোরের পালবাড়ির মীর সাইদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, আবু বকক্কার সিদ্দিকী ফরিদের আপন শ্যালক নিহত শিশু রিহান। গত সোমবার সন্ধ্যায় শ^শুর বাড়ি থেকে রিহানকে চুরি করে নিয়ে পালিয়ে আসেন তিনি। আসার পথে এবং বাড়িতে আনার পরে শিশুকে মারপিট করে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে শিশুটি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় রিহানকে নিজের ছেলে পরিচয় দিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে ফরিদ। বলা হয় রিহান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। তাছাড়া ফরিদের বাড়ি ঝুমঝুমপুরে বলে হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে উল্লেখ করে। কিন্তু এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসক ফাহিম ফয়সাল ওই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় ফরিদ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে জাতীয় সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ফরিদকে আটক করে থানায় নেয়।
কোতোয়ালি থানার এসআই শরীফ আল মামুন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে আসার পরে সেবিকাদের সন্দেহ হলে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। শিশু রিহানের লাশ ময়নাতদন্তর জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
এসআই শরীফ আল মামুন আরো জানিয়েছেন, রিহানকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে যশোরে নিয়ে আসে। পথে শিশুটিকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপা আঘাত করা হয়। এসময় শিশুটির কান্নার আওয়াজ মোবাইলে তার বাবা-মাকে শোনায় ফরিদ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটির অবস্থা খারাপ হলে ফরিদ নিজে বাবা সেজে হাসপাতালে শিশুকে ভর্তি করে। যার রেজিঃ নং-১৬৭৫১/৬২ ও ঠিকানা উল্লেখ করে শহরতলীর ঝুমঝুমপুর। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর আড়াইটার দিকে ডা. ফাহিম ফয়সাল শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুকে চাপা আঘাত করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের চিহ্ন রয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডা. আব্দুর রশিদ জানান, শিশুটিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হিসাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।