নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারে কোন পণ্যের সংকট নেই। তারপরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়েছে মুনাফাখোর অসাধু ব্যবসায়ীরা। বাজার মনিটারিং বাড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। রোববার বেলা সাড়ে ১০ টায় শুরু হওয়া জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সভায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সুর মিলিয়ে একই বার্তা দেন পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদারও। তিনি হুশিয়ারি দেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করবে। ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই যশোরের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তো এই মুনাফাখোর ব্যবসায়ী কারা? এর পিছনে যে অসাধু-মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা কাজ করছে দ্রুতই তাদের হাতে হ্যান্ডক্যাপ উঠবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান।
সভায় জানানো হয়, যশোরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। ফেব্রুয়ারিতে জেলায় ৩১৩টি মামলা হয়েছে। যা গত জানুয়ারিতে ছিলো ২৮৫টি। জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর জানিয়েছে গতমাসে ২১০টি অভিযানে ৭৫ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলায় জনবল সংকটের মধ্যেও তারা নিয়মিত মাদক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছেন।
জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব জানান, রমজান উপলক্ষে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। জনবল সংকট নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী ১৫ মার্চ ভোক্তা অধিকার দিবসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি সভা করে এই সিন্ডিকেট রুখতে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান তিনি।
সড়কে বেপারোয়া চলাচলের কারণে যশোর অঞ্চলে সম্প্রতি সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। এটি রোধে সচেতনতা বাড়াতে জোর দেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে যে সড়কে দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে এমন জায়গাতে মনিটারিং-প্রচারণা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেন তিনি। খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণচালান হয় যশোরে। সম্প্রতি সময়ে আটক হওয়া প্রায় ৭০০ কেজি সোনা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে রয়েছে। এসকল মামলা দ্রুত নিম্পত্তি করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পুরনো যতগুলো মামলা চলমান সেগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:পিবিআইয়ের হাতে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের দু’সদস্য আটক
যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়াদ্দার বলেন, যশোরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো। সন্ত্রাসী-মাদকসেবীদের ছাড় নেই। যারা এদের প্রশ্রয়দাতা তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যশোরে কোন বিশৃঙ্খলাকারীদের ঠাই নেই। যশোর অঞ্চলের সড়কগুলো অনেক ভালো হয়েছে। এই সড়কে দ্রুতগতির কারণে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া যে সড়কে যে পরিবহন চলার কথা সেই সড়কে সেই পরিবহন না চলার কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে বলে জানান তিনি। এটি রোধে পারিবারিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এসময় বক্তব্য রাখেন যশোর পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গনি খান পলাশ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট এস এম শাহীন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম ইদ্রিস আলী, জেলা শিক্ষা অফিসার একে এম গোলাম আযম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী, প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া সভায় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আট উপজেলার নির্বাহী অফিসার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে যশোরে বাল্য বিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, কঠোর অবস্থানে থাকায় জেলায় বাল্য বিবাহের সংখ্যা কমছে। তার পরেও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে দু-একটি বিয়ে হচ্ছে বলে স্বীকার করেন মহিলা অধিদপ্তর যশোরের উপ পরিচালক আনিচুর রহমান। তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে ২টা বাল্যবিবাহ ও জানুয়ারিতে ৬টা বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন।
আরও পড়ুন:যশোর হাসপাতালে ১২ দিনে ভর্তি হয়েছেন ৩৫০ রোগী
