নিজস্ব প্রতিবেদক
শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, ডিসপ্লে, কুচকাওয়াজ ও শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানে লাল-সবুজ উড়িয়ে বিজয় উদযাপন করেছে যশোরের মানুষ।
বিজয়ের ৫১ বছর পূর্তির আনুষ্ঠানিকতা প্রথম প্রহর থেকে এসব অনুষ্ঠান করেন বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আজ শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে শহরের মণিহার এলাকাস্থ বিজয়স্তম্ভে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ,জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ, যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে যশোর জেলা বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা বিজয় স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এক পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে বিজয়স্তম্ভে। এসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শপথ পাঠ করা হয়।

পরে যশোর স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে আটটায় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ দিনভর বিভিন্ন সংগঠনের নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদন করে যশোর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সিভিল সার্জন অফিস, যশোর মেডিকেল কলেজ, জেনারেল হাসপাতাল, বিএমএ যশোর, স্বাচিপ যশোর, পরিবেশ অধিদপ্তর, মৎস্য বিভাগ, গণপূর্ত অধিদপ্তর বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসি, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর, এল.জি.ই.ডি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, জেলা শিক্ষা অফিস, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসের কার্যালয়, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় ও সাব রেজিস্ট্রার, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১, প্রেসক্লাব যশোর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর সরকারি এম.এম কলেজ,প্রেসক্লাব যশোর, সরকারি সিটি কলেজ, যশোর সরকারি মহিলা কলেজ, যশোর জিলা স্কুল, ডা.আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ, যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, বিসিএমসি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেকনিক্যাল কলেজ, যশোর হোমিওপ্যাথিক কলেজ ও হাসপাতাল, যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন ৮৭ব্যাচ, যশোর জেলা যুবলীগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জেলা বিএনপি, সদর উপজেলা বিএনপি, যশোর নগর বিএনপি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ, জাসদ, জাসদ (জেএসডি), যশোর ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়ন, জাতীয় শ্রমিক লীগ, বাম গণতান্ত্রিক জোট, যশোর মটর পার্টস ব্যবসায়ী সমিতি, যশোর ফল ব্যবসায়ী সমিতি, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ, সনাতন ধর্ম সংঘ, বাঁচতে শেখা যশোর, জয়তী সোসাইটি যশোর, এডাব যশোর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদ, সুরবিতান, কিংশুক, চাঁদের হাট, মাইকেল সংগীত একাডেমী, পুনশ্চ যশোর।

এদিকে, বেলা ১১টায় যশোর টাউন হল মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, যশোর পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণী খান পলাশ, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিএলএফ প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি, ডেপুটি প্রধান ও তৎকালীন ছাত্রলীগের বৃহত্তর খুলনা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন,‘বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের সম্মানের প্রশ্নে বর্তমান সরকার আপসহীন। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানিত হন।’
‘১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তিরা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বিএনপি-জামায়াত তাদের কূটকৌশল চরিতার্থ করতে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র করছে। তারা সভা-সমাবেশের নামে মিথ্যাচার করছে। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে দেশে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল। তারাই দেশে বাংলাভাই, শায়খ আব্দুর রহমানের জন্ম দেয়। নৈরাজ্য করে তারা দেশকে মিনি পাকিস্তান বানাতে চায়।’
বক্তারা আরো বলেন, ‘মহান বিজয় দিবসে আমাদের শপথ হোক, আমরা স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি, দেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বয়কট করবো। আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত
সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে বিজয়স্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানায় যশোরবাসী। এরপর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে বিজয়স্তম্ভে। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শপথ পাঠ করা হয়। এরপর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৮টায় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
