কোটি টাকা আত্মসাৎ
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে মিথ্যা লোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুব মহিলা লীগ নেত্রী মাহমুদা খাতুনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, যশোর সদর উপজেলার বারীনগর বানিয়ালি গ্রামের ইউসুফ আলী বিশ্বাসের ছেলে আব্দুস সোবহান শনিবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। অভিযুক্ত মাহমুদা খাতুন সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মোড় এলাকার মৃত ডাক্তার মনসুর আলীর মেয়ে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, মাহমুদা খাতুন একসময় যশোরের ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সেই সময় বাদী আব্দুস সোবহানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে ‘মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেড’ নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন এবং ঢাকায় চলে যান।
পরবর্তীতে তিনি বাদীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। লোনের বিপরীতে শতকরা ২ ভাগ হারে লভ্যাংশ দিতে হবে এবং ১০ থেকে ১২ বছর পর সেই লোন পরিশোধ করা যাবেÑএমন প্রস্তাব দেন তিনি। তার কথায় বিশ্বাস করে বাদী বিষয়টি আরও অনেককে জানান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত যশোর শহরের চৌরাস্তার রিচম্যান শোরুমে বসে মাহমুদা ৩২ জনের কাছ থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তিনি প্রত্যেককে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ব্যাংক হিসাব নম্বর এবং তিন থেকে চারটি করে ফাঁকা চেকও নেন তিনি। এক মাসের মধ্যে লোন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে আর তা বাস্তবায়ন করেননি।
টাকা নেওয়ার পর মাহমুদার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি ফোন রিসিভ করতেন না এবং নানা অজুহাত দেখাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি যশোরেও তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
চলতি বছরের ৭ মার্চ সকালে যশোর শহরের দড়াটানা এলাকায় ‘খেলাঘর’ নামের একটি দোকানের সামনে তাকে দেখতে পেয়ে ভুক্তভোগীরা ৭০ লাখ টাকা ফেরতের দাবি জানান। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরে তার যশোরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হন। অনেকেই অভিযোগ করেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তাদের কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহমুদা খাতুন ও তার ছেলে তন্ময় জামানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় অসংখ্য ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি ফারুক আহমেদ জানান, “মাহমুদা খাতুনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে। উপ-পরিদর্শক আশরাফুল আলমকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
