হত্যা-অস্ত্রসহ ২০ মামলার আসামি
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের বহুল আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত কামরুল ইসলাম ওরফে ‘খোঁড়া কামরুল’-কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। জামায়াত নেতা আমিনুল হত্যা মামলাসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার এই আসামির বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক, চাঁদাবাজি, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মাদক আইনে মোট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অস্ত্র কেনাবেচার একটি মামলার তদন্তে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে জেলার অপরাধ জগতের একটি পরিচিত নাম। বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অস্ত্র বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার একটি অস্ত্র মামলায় খালিদুর রহমান টিটু ও শেখ মইনুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে দেওয়া তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উদ্ধার হওয়া বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি কেনাবেচার সঙ্গে খোঁড়া কামরুলের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে। তারা জবানবন্দিতে জানান, অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কামরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের এসআই সালাউদ্দিন খান ও এসআই বাবলা দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অভিযান শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির পর শনিবার বিকেল ৩টার দিকে যশোর শহরের মিশনপাড়া এলাকার শখের কুটির ভবনের নিচতলার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহের অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, যশোর শহর ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা চক্রের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। তার মাধ্যমে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্র অস্ত্র সংগ্রহ করত বলেও তদন্তে তথ্য মিলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, ছয়টি অস্ত্র মামলা, চারটি বিস্ফোরক মামলা, সাতটি চাঁদাবাজি ও অন্যান্য মামলা, একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা এবং একটি মাদক মামলা রয়েছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে ২০টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত কামরুল ইসলাম একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের একটি মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, কামরুলের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে যশোর অঞ্চলে সক্রিয় অস্ত্র বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
#
