নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চলছে সিরিঞ্জ সংকট। গত ১৫ দিন ধরে হাসপাতাল থেকে কোন রোগী সিরিঞ্জ পাচ্ছে না। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।
হাসপাতাল সূত্র মতে, যশোর ছাড়াও নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার রোগীরা যশোর আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। প্রতিদিন বহিঃবিভাগে গড়ে দুই হাজার রোগী চিকিৎসা নেয় এবং ভর্তি থাকে অন্তত ৪শ’ রোগী। যেকারণে হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় হাজার সিরিঞ্জ প্রয়োজন হয়। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে চলছে সিরিঞ্জ সংকট। কিছু সিরিঞ্জ ব্লাড ব্যাংকে থাকলেও তা খুবই নগণ্য। কোনভাবেই চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না।
যশোর সদরের এড়েন্দা শান্তির মোড় এলাকার আসলাম আলী হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। তিনি জানান, এখান থেকে কোন সিরিঞ্জ সরবরাহ করা হচ্ছে না। বাইরে থেকে ওষুধ কেনার পর নিয়ে আসলে সিরিঞ্জ কিনতে আবারও বাইরে যেতে হচ্ছে। কোন ধরণের পরামর্শ চাইতে গেলে রোগীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফ্যান ঘোরে না, মশারি নেই। এসব নিয়ে কোনো কথাই বলা যায় না। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন শহরের ষষ্ঠীতলা পাড়ার শহিদুর রহমান চঞ্চল। তার ছেলে রোকনুজ্জামান সৌরভ জানান, সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। সিরিঞ্জ পর্যন্ত দিচ্ছেনা।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ব্রাদার তারেক বিশ্বাস জানান, গত কয়েকদিন ধরে সিরিঞ্জ পাওয়া যাচ্ছে না। যেকারণে রোগীদের বাইরে থেকে আনতে বলা হচ্ছে। লেবার ওয়ার্ডের নার্স আয়েশা বেগম বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে বেশি সিরিঞ্জের ব্যবহার হয়ে থাকে। সিজারের রোগীদের ইনজেকশন দিতে সিরিঞ্জ প্রয়োজন। হাসপাতালে না থাকার কারণে রোগীরা কিনে আনছেন।
একই ধরণের কথা বলেন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নার্স হোসনেয়ারা বেগম। তিনি বলেন, হাসপাতালে গত ৪ মাস ধরে সিরিঞ্জ সাপ্লাই সনেই। রোগীদের প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়।
হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে কর্মরত পিন্টু ও রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে কিছু সিরিঞ্জ রয়েছে। যেগুলো দিয়ে কাজ হচ্ছে। তবে আর দুইদিন পর সংকট তৈরি হবে।
এব্যাপারে যশোর আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবদুস সামাদ জানান, আমাদের হাসপাতালে গত ১৫ দিন ধরে সিরিঞ্জ সংকট চলছে। ইতিমধ্যে আমরা ঢাকায় চিঠি দিয়েছি। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে সিরিঞ্জ চলে আসবে।