রায়হান সিদ্দিক
যশোরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জেলা প্রশাসকের কার্যলয় বা কালেক্টরেট ভবন। এ চত্বরের চারপাশে বিভিন্ন সময় নির্মাণ করা হয়েছে ৭টি প্রবেশ গেট। যার ৬টিই থাকে বন্ধ। ফলে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেবাভোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কালেক্টরেট চত্বরে প্রবেশের জন্য বর্তমানে পশ্চিম পাশের মূল ফটক ছাড়া সবগুলো গেটই বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ কালেক্টরেট চত্বরে প্রবেশের জন্য শহরের দড়াটানা মোড়ে ১টি, তথ্য অফিসের পাশে ১টি, দক্ষিণ পাশের কালেক্টরেট মার্কেট সংলগ্ন ২টি, নির্বাচন অফিসের পাশে ১টি এবং কালেক্টরেট পার্কের ১টি গেট রয়েছে। বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসকরা নাগরিক সুবিধার জন্য গেটগুলো নির্মাণ করেছেন অথবা নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। আবার অন্য জেলা প্রশাসকরা পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন। গেটগুলো বন্ধ থাকায় নাগরিকরা যেমন সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন তেমনি গেট নির্মাণে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে সেটিও অপচয়ের তালিকায় পড়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
যশোরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানায় ১৮৮৫ সালে নির্মিত হয় একতলা কালেক্টরেট ভবন। পরবর্তীতে মূল নকশার সাথে মিল রেখে ভবনটি দোতালা করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই ভবনে রয়েছে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি দপ্তরের কার্যালয়। যার মধ্যে অন্যতম জেলা প্রশাসকের কার্যলয়। এছাড়াও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকের কার্যালয়, জেলা তথ্য অফিস, ই-সেবা কেন্দ্র, জেলা নির্বাচন অফিস, কালেক্টরেট পুকুর ও একটি পার্ক। চত্বরের দক্ষিণ দিকে আছে কালেক্টরেট মার্কেট।
বিভিন্ন সময় কালেক্টরেট ভবনে সরকারি দপ্তরে আসেন শহরের বেজপাড়ার বাসিন্দা খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, কালেক্টরেট চত্বরে প্রবেশ করার জন্য চারদিকে রাস্তা আছে। কিন্তু গেটগুলো বন্ধ থাকায় অনেক পথ ঘুরে প্রধান ফটক দিয়ে আসতে হয়। এতে যেমন সময় নষ্ট হয় তেমনি রিকশা বা ইজিবাইকে আসতে গেলে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য যখন গেট নির্মাণ করা হয়েছে; তাহলে সেই গেট কেন বন্ধ থাকবে এমন প্রশ্নও করেন তিনি।
খোরশেদ আলম বলেন, এখানে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তর রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষের যাতায়াত। দুই-তিনটি গেট খোলা থাকলে নাগরিকরা সুবিধা মতো যাতায়াত করতে পারতেন।
রাজিব হাসান নামে একজন সেবাভোগী বলেন, শহরের দড়াটানায় অধিকাংশ সময় যানজট লেগে থাকে। যার কারণে মোটোরসাইকেল বা অন্য কোন বাহনে ডিসি অফিসে আসতে বিলম্ব হয়। অথচ ওইখানে প্রবেশের চারদিকের রাস্তা আছে। গেটগুলো খোলা থাকলে এই ভোগান্তিতে আমাদের পড়তে হতো না।
পৌর নাগরিক কমিটি যশোরের সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, অর্থ অপচয়ের এটি একটি ভালো মাধ্যম। ইচ্ছা হলো একটা নতুন গেট বানালাম, আবার তা বন্ধও রাখলাম। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে যদি গেটগুলো নির্মাণ হতো তাহলে অবশ্যই পরিকল্পনা করে নির্মাণ করা হতো।
তিনি বলেন, সদূর পরিসারী কোন পরিকল্পনা না থাকার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উচিৎ ৭টি গেটের মধ্যে অন্তত ৩টি গেট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা। তাহলে জনগণের কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমবে।
এদিকে নিরাপত্তা জনিত কারণে গেটগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এমনটা জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম শাহীন। তিনি বলেন, ৭টি গেট আসলে অপ্রয়োজনীয়। তবুও বিভিন্ন সময় হয়তো প্রয়োজনের কারণেই গেটগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে এতগুলো গেট খুলে রেখে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পশ্চিম পাশের গেটটি এখন মূলগেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও অফিস চলাকালে দক্ষিণপাশের একটি গেট খোলা থাকে। তবে জনসাধরণের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও একটি গেট খুলে রাখা যেতে পারে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
