ক্রীড়া প্রতিবেদক: যশোর ক্লাব ক্রিকেটে কয়েকবছর দাপট দেখাচ্ছে যশোর ক্রিকেট ক্লাব। টানা দুই বছরের চ্যাম্পিয়ন দলের আধিপত্যে হানার দেয়ার চেষ্টা করেছিল নতুন পরাশক্তি হয়ে উঠে আরএন রোড ক্রীড়া চক্র। যশোর ক্রিকেট প্রেমীরাও এই দুই দলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে দুই পর্বে কোনই ম্যাচে বেসরকি বৃষ্টি সম্পন্ন হতে দেয়নি।
শনিবার গ্রুপ পর্বের মতো সুপার ফোরের ম্যাচও বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। আর সেটাই কাল হলো আরএন রোড ক্রীড়া চক্রের। শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামে প্রায় হারতে বসা ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বাদ পেয়েছে যশোর ক্রিকেট ক্লাব।
যশোর ক্রিকেট ক্লাবের ১৪৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫ ওভার ২ বলে ৯৩ রান করা বৃষ্টি শুরু হয়। পরে মাঠ খেলার উপযুক্ত করতে না পারায় ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের জেলা পর্যায়ের টুর্নামেন্টের মাঠ প্রস্তুতিতের জন্য দ্রুত ছাড়তে হবে তাই নির্ধারিত সময়ের একঘন্টা আগে ম্যাচ শুরু হয়। এতে টস হেরে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত আরএন রোড ক্রীড়া চক্রের অধিনায়ক মঈনুল ইসলাম সোহেল।
ব্যাট করতে নেমে দারুন শুরু করে যশোর ক্রিকেট ক্লাবের দুই ওপেনার রুশাদ হোসেন ও আহাদ গাজী। আহাদ গাজী (১২) গাজী অরিদুল ইসলাম আকাশের বলে আলিফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ভাঙ্গে জুটি। ৫ ওভার এক বল স্থায়ী জুটিতে আসে ২৭ রান। এরপর রুশাদ দ্বিতীয় উইকেটে মাহফুজুর রহমান টিটো গড়েন ২৮ রানে জুটি। এতেই ১০ ওভারে তাদের স্কোর বোর্ডে জমা হয় ৫৫ রান। তবে মুহূর্তে ভেঙ্গে পড়ে যশোর ক্রিকেট ক্লাবের মিডল অর্ডার। এক উইকেটে ৫৫ থেকে ৬৭ রানে ৬ উইকেটের দলে পরিণত হয়। এখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতি পারেনি। শেষ দিকে বহিরাগত কোটায় খেলা খুলনা বিভাগীয় দলের ডানহাতি পেসার মাসুম খান টুটুল ও বাঁহাতি স্পিনার টিপু সুলতানের ২০ ছাড়ানো দুই ইনিংসের উপর নির্ভর করে পুরো ৫০ ওভার খেলে ১৪৪ রান করতে পারে। টুটুল ৫৩ বলে ৩ চারে ২২ ও টিপু সুলতান ৮৪ বলে ২ চারে অপরাজিত ২৪ রান করেন।
আরএন রোড ক্রীড়া চক্রের অধিনায়ক সোহেল ৯ জন বোলার ব্যবহার করেন। তবে এর মধ্যে ৩৫ রানে তিন উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার অরিদুল ইসলাম আকাশ। এছাড়া লাকাতুজ্জামান রুবেল ও জাভেদ ২১ রানে ২টি করে উইকেট দখল করেন।
চ্যাম্পিয়ন হতে হলে ৪০ ওভারের মধ্যে ম্যাচ জিততে হবে। এমন সমীকরণে ব্যাট করতে নেমে দারুন উড়ন্ত সূচনা করে আরএন রোড ক্রীড়া চক্রের দুই ওপেনার সাদমান ও শোভন। ১৩ ওভার তিন বল স্থায়ী জুটিতে আসে ৮৬ রান। পরের দুই ওভারে সাত রান তোলার পর শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টি থামলেও মাঠ আর খেলার উপযুক্ত করা সম্ভাব হয়নি। পরে চারটা ১০টা মিনিটে দুই আম্প্যায়ার ম্যাচ পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে। আরএন রোডের হয়ে সাদমান ৪৮ বলে ৭টি চার ও ১টি ছয়ে ৫৩ রান করেন। এরপাশে শোভন ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
এদিনের ম্যাচে স্কোর কার্ডের তথ্য অনুযায়ী দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা শুরু হয় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। আর বৃষ্টি নামার সময় খেলা স্থগিত হয় দুপুর দুইটা ছয় মিনিটে। এ সময়ের মধ্যে ছিল পাঁচ মিনিটের পানি পানের বিরতি। সে হিসেব অনুযায়ী এ সময়ে খেলা হয়েছে ৮১ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের ১৯ ওভার শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু খেলা হয়েছে ১৫ ওভার দুই বল। ফিল্ডিং দলের খেলোয়াড়দের অসহযোগিতার কারণে তিন ওভার পাঁচ বল কম খেলা হয়েছে বলে দাবি আরএন রোড ক্রীড়া চক্রের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও তাদের সমর্থকদের। যা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এ ম্যাচে শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিল আরএন রোড ক্রীড়া চক্র। যদি এ কয় ওভার খেলা হতো তা হলে খেলার ফলাফলের ভিত্তিতেই হতো ম্যাচের ফলাফল। এমনটাই দাবি আরএন রোড ক্রীড়া চক্রের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও তাদের সমর্থকদের।
এদিকে আজ রোববার জাগরণী সংসদ ও আসাদ ক্রিকেট একাডেমির মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে ‘ম্যারাথন’ লিগের সমাপনী। এই ম্যাচে জাগরণী সংসদ জিতলেই লিগের রানার্সআপ হবে ঝিকরগাছার দলটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
টস : আরএন রোড ক্রীড়া চক্র।
যশোর ক্রিকেট ক্লাব : ৫০ ওভার ১৪৪/৯ (রুশাদ হোসেন ২০, আহাদ গাজী ১২, মাহফুজুর রহমান টিটো ২৫, ইমরানুজ্জামান ৭, হাসানুজ্জামান ১*, রেজওয়ান ০, আবু বক্কার জীভন ১২, মাসুম খান টুটুল ২২, টিপু সুলতান ২৪*, মেহেদি হাসান শিবলি ৮, রনি হোসেন ১; আমিনুর ০/১২, আকাশ ৩/৩৫, সোহেল ০/১৭, রয়েন ০/১৯, রুবেল ২/২১, জাভেদ ২/২১, ইমন ০/৬, নিলয় ০/৪, সাদমান ১/৫)।
আরএন রোড ক্রীড়া চক্র : ১৫.২ ওভার ৯৩/১ (সাদমান ৫৩, শোভন ২৯*, রয়েন ২*; আবু বক্কর জীবন ১/৮, মাহফুজুর রহমান ০/২৩, টিপু সুলতান ০/১৬, রনি হোসেন ০/২৯, মাসুম খান টুটুল ০/৬, মেহেদি হাসান শিবলি ০/২, হাসানুজ্জামান ০/১৩)।
ফল : বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত