দৈনিক কল্যাণে আবারো সংবাদ প্রকাশ হয়েছে যশোর শহরের যানজট নিয়ে। সংবাদে এই যানজটকে মহা এক দুর্যোগ বলা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে এ সময়টায় সিভিল কোর্ট এলাকার রাস্তায় চলাচল করা যায় না।
বেলা ১২টা পর্যন্ত এখানে আটকে থেকে পথচারীদের ‘বারোবাজা’ অবস্থা হয়ে যায়। এ সমস্যা শুধু সিভিল কোর্ট এলাকায় নয় গোটা শহর জুড়ে। তাই যশোর শহরটাকে সাচ্ছন্দ চলাচলের শহরে পরিণত করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সেই আগেকার দিনে দড়াটানা থেকে সিভিল কোট, চৌরাস্তা, সদর হাসপাতাল আর বকুলতলার মধ্যে শহরটা সীমাবদ্ধ নেই। এ অবস্থায় ট্রাফিক ব্যবস্থা যদি জোরদার করা না যায় তাহলে চলাচলের ক্ষেত্রে তো সমস্যা হবেই। কিন্তু সে দিকে কারো নজর আছে বলে মনে হয় না। শহরের ব্যস্ততম সড়কে লেগেই থাকে জানজট। অবৈধ ইজিবাইক, ব্যাটারি চালিত রিকশা ও নসিমন করিমনে ভরে গেছে শহর। রাতে নির্দিষ্ট সময়রে আগে শহরে প্রবেশ করছে ভারি যানবাহন। এসব অবৈধ কর্মকান্ড দেখার কেউ নেই।
গণমাধ্যমের খবর যশোর শহরে ট্রাফিকের কম নয়। এতো লোকবল থাকার পরও যশোর শহরে জানজট লেগেই থাকে। আসলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলেই যানজট নিরসন কোনো কঠিন কাজ নয়। আমরা লক্ষ্য করেছি যানজট সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো ট্রাফিক আইন মেনে না চলা। আজ ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজি বাইকের ওপর যে দোষ চাপানো তা কোনো ক্রমেই যুক্তি নির্ভর কথা নয়। শহরে এগুলো চলাচলের আধিক্য আছে ঠিকই; তাই বলে একটি বাইক অথবা রিকশাও যাত্রী না নিয়ে কি খালি ঘুরে বেড়ায়? যদি যাত্রী নিয়ে চলাচল করে তাহলে বুঝতে হবে মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে এগুলো চলছে। শহরে যানজট যেমন সমস্যা তেমনি যদি যানবাহন সংকট হয় তাহলে সেটা একটা সমস্যা হবে। ইতোপূর্বেও এই যানজট নিয়ে কথা উঠেছে।
মানুষের প্রয়োজনে ইজিবাইক, রিকশা প্রভৃতি চলে। কেউ রুটি-রুজির প্রয়োজনে চালায়। আবার কেউ জরুরি প্রয়োজনে তাতে চড়ে। চিন্তা-চেতনাহীন পদক্ষেপ নেয়া হলে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। এ বিষয়ে সুধিজনদের অনেকে মন্তব্য করেছেন, যানজটে জটিল জায়গায় ওয়ানওয়ের ব্যবস্থা করলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে।