কল্যাণ ডেস্ক
কিটক্যাটের (চকলেট) নামে কি কিনছেন বাজার থেকে, অনেকে দুধ মনে করে শিশুকে খাওয়ালেও পরীক্ষাগারে দুধের পরিমাণ খুবই সামান্য পাওয়া গেছে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নেসলের ওই চকলেট ভৌত ও রাসায়নিক পরীক্ষায় অত্যন্ত নিম্নমানের পাওয়ায় বাংলাদেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চকলেটে দুধের কঠিন অংশ ১২ থেকে ১৪ শতাংশ অথবা তার উর্ধ্বে হওয়ার কথা, সেখানে ল্যাব পরীক্ষায় মাত্র ৯.১২ শতাংশ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে দুগ্ধ চর্বির মান ২.৫ থেকে ৩.৫ শতাংশ কিংবা তার বেশি থাকার কথা, কিন্তু রাসায়নিক পরীক্ষায় মাত্র ১.১৬ শতাংশ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এমন রিপোর্ট দিয়েছে।
ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই ঢাকার স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারী ইন্সপেক্টর) মোহাং কামরুল হাসান বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আমানিয়া বেকারী অ্যান্ড সুইটস (ইনার সার্কুলার রোড, ফকিরাপুল, ঢাকা) থেকে ১০০০ গ্রাম (১ কেজি) ওজনের মোড়কজাত অবস্থায় কিটক্যাট সংগ্রহ করে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষকের বরাবরে প্রেরণ করা হয়। রিপোর্টে কিটক্যাট মানসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুধের কঠিন অংশ (ফ্যাটবিহীন দুধ/স্কিম মিল্ক পাউডার, ল্যাকটোজ) ১২ থেকে ১৪ শতাংশ অথবা তার উর্ধ্বে থাকার কথা। কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্টে মাত্র ৯.১২ শতাংশ পাওয়া গেছে।
ওই রিপোর্ট পাওয়ার পরপরেই বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের (আমানিয়া বেকারী অ্যান্ড সুইটস) ম্যানেজারকে নোটিশ করেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর। বিক্রেতা জবাবে চকলেটগুলো (কিটক্যাটগুলো) আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ ও উৎপাদনকারিকে (নেসলে) অপরাধী চিহ্নিত করেন। জবাবের সঙ্গে সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের ক্যাশ মেমো জুড়ে দেন।
মামলাও আরও উল্লেখ করেছেন, ক্যাশ মেমোর সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন তদন্ত করে সঠিক বলে প্রতিয়মান হয়। সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মালিককে নেসলে এবং ইনটেক কিটক্যাট এর আমদানিকারক এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য উপাত্ত লাইসেন্সের ফটোকপি, ক্যাশ মেমো চাওয়া হলেও সরবরাহ করেননি। পরে ডাকযোগে নোটিশ পাঠালেও কোন জবাব দেননি।
মামলায় কিটক্যাটের আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের (৭ মকিম কাটারা, সাখাওয়াত ম্যানশন, চকবাজার ঢাকা) মালিক মোঃ মোজাম্মেল হোসাইনকে আসামী করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৬, ৩৭, ৩৯, ৪০ এবং ৫৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোর্ট তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে জানা গেছে।
কিটক্যাটের আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের নম্বরে ফোন দিলে রিসিভ করেন তুহিন নামের এক ব্যক্তি। কিটক্যাটের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবো না। মালিক এখন বাইরে রয়েছে, তিনি এলে আপনাকে ফোন দিতে বলবো।
বক্তব্যের জন্য নেসলের প্রধান কার্যালয় ও নেসলে বাংলাদেশে মেইল করা হয়।
জবাবে নেসলে বাংলাদেশের পরিচালক লিগ্যাল, কর্পোরেট অ্যাফায়ার্স ও রেগুলেটরি অ্যাফায়ার্স এবং কোম্পানী সচিব দেবব্রত রায় চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ-এর বিরুদ্ধে কিছু খুচরা দোকানে KitKat পণ্য সরবরাহ করার অভিযোগে নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে একটি মামলা দায়ের হওয়ার সংবাদটি আমাদের নজরে এসেছে। আসলে বাংলাদেশে বাজারজাতকৃত KitKat পন্যগুলোর কোনটাই এদেশে প্রস্তুতকৃত নয়, বরং এগুলি ফিনিশড পণ্য হিসেবে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
উপরোক্ত বিষয়টি অধিকতর যাচাই করার পর, আমরা এই মর্মে নিশ্চিত করতে চাই যে Nestlé Bangladesh PLC প্রশ্নবিদ্ধ পণ্যটি আমদানি বা বিতরণ করেনি এবং সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ এর সাথে Nestlé এর কোনো সম্পর্ক নেই।
অধিকন্ত আমাদের মনে হচ্ছে, পণ্যটি কোনো অননুমোদিত এবং অবৈধ আমদানিকারক দ্বারা আমদানিকৃত এবং বাজারজাতকৃত হতে পারে।
এছাড়াও, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখিত মানদণ্ড এবং প্যারামিটারগুলি যার ভিত্তিতে মান পরীক্ষা করা হয়েছে তা KitKat এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যা মান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে BSTI এর মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে বলে আমরা মনে করি।
ভোক্তারা যাতে authentic Nestlé KitKat ক্রয় করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে, আমরা দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি যেন তাঁরা “Imported and Marketed by : নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি” এরুপ একটি স্টিকার লেবেলে দেখে নেন। যা তাদের আশ্বস্ত করবে যে, পণ্যটি কঠোর পরীক্ষণের মাধ্যমে BSTI বা BCSIR সহ আন্তর্জাতিকভাবে প্রযোজ্য সকল মানদণ্ডে যাচাইকৃত।
সারা বিশ্বে বেশ সমাদৃত। কিটক্যাটের যাত্রা শুরু হয় ‘রাউনট্রি’স চকলেট ক্রিস্প’ নামে। ১৯৮৮ সালে নেসলে (সুইজারল্যান্ড) এটি অধিগ্রহণ করে কিটক্যাট নামকরণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বজুড়ে নেসলে কোম্পানি এই চকোলেটটি উৎপাদন করে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করে হার্শে কোম্পানি। বহুজাতিক কোম্পানির ওই পণ্যের গুণগতমানের অবস্থা নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। তারা বলেছেন, এ রকম একটি নামকরা কোম্পানি যদি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাহলে কার উপর আস্থা রাখবো। নেসলের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিৎ।
