শার্শা প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় এক ভ্রাম্যমাণ ইলেক্ট্রিশিয়ান পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকের বৈদ্যুতিক মিটার স্থানান্তর করছেন। বিষয়টি জনাজানি হলে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা গ্রাহকের মিটার খুলে অফিসে নিয়ে আসে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোবাইল ফোনে মন্তব্য নিতে ওই ইলেক্ট্রিশিয়ান মিস্ত্রিকে ফোন দিলে সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিলে ভুক্তভোগীরা জানান, পটুয়াখালী জেলা সদরের বাসিন্দা মাসুদুল হক মাসুদ। বৈবাহিক সূত্রে কয়েক বছর যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত খলিল উদ্দিনের বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছেন। তিনি এলাকায় ইলেকট্রিশিয়ান মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। তিনি এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎ অফিসের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে বহু গ্রাহকের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। নতুন মিটার সংযোগ ও মিটার স্থানান্তর করতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কোনো প্রকার যোগযোগ না করে তিনি টাকা আত্মসাত করছেন। মিটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অফিসের কোনো রকম নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নিজেই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীদের নাম ভাঙ্গিয়ে মিটার স্থানান্তর করে।
জানা যায়, লক্ষ্মণপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের সদর আলী ছেলে আবাসিক গ্রাহক অহেদ আলী, (হিসাব নম্বর ২৮৪-১৭৫০) কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের স্ত্রী আবাসিক গ্রাহক জবেদা খাতুন (হিসাব নং- ৩৪০-১০১৫ মিটার নং- ২০৭৭৪৪৩৯), দরিদূর্গাপুর গ্রামের মৃত সামসুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেনের মিটার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ না করে তাদের দোহায় দিয়ে অবৈধভাবে নিজেই মিটার স্থনান্তর করেছেন। মিটার স্থানান্তর করতে প্রতারণার মাধ্যমে অহেদ আলীর কাছ থেকে ১২শ টাকা, জবেদা খাতুনের কাছ থেকে ৬শ টাকা ও আনোয়ারের নিকট থেকে ১৯শ টাকা গ্রহণ করে। বিষয়টি সাড়াতলা এরিয়া অফিসের কর্মীরা জানতে পারলে মিটারগুলো খুলে অফিসে নিয়ে আসে। এছাড়াও কৃষ্ণপুর গ্রামের শাহিন আলমের ছেলে ওমর ফারুকের কাছ থেকে তিন হাজার টাকার চুক্তিতে এক হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু আজও পর্যন্ত মিটার করে দিতে পারেনি। এমনি টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। এভাবে এলাকার পল্লী বিদ্যুতের সাধারণ গ্রাহকদের মিটার একস্থান হতে অন্যস্থানে স্থানান্তর ও নতুন মিটার পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রতারণা করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক মাসুদ। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মিটার স্থানান্তর করণ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের সাড়াতলা এরিয়া অফিস লিখিতভাবে শার্শা অফিসকে জানিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে নন ইলেক্ট্রিশিয়ান মিস্ত্রি মাসুদের নিকট মোবাইল ফোনে সাংবাদিক বিএম রুহুল কুদ্দুস শাকিল জানতে চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন।
শার্শা জোনাল অফিসের (ডিজিএম) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অফিসের লিগ্যাল প্রক্রিয়া ছাড়া মিটার স্থানান্তর করার কোন সুযোগ নেই। নতুন মিটার সংযোগ পেতে অফিসের যথাযথ নিয়মনীতি প্রতিপালন সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয়। যদি কেউ অবৈধভাবে এমন কাজে সংশ্লিষ্ট থাকে তাহলে আমাদের নিকট তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন। আর অবৈধভাবে যে সব মিটার স্থানান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন আছে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে নাভারণ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি ও দৈনিক সমাজের কথার সাড়াতলা (শার্শা) প্রতিনিধি বিএম রুহুল শাকিলকে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। দোষী মাসুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।