নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে সন্ত্রাসী রবিউল ও তার বাহিনীর হাতে ছুরিকাহত হয়েছেন শহিদুজ্জামান চঞ্চল নামে একজন। ফেনসিডিল তৈরির কারখানার সন্ধানে পুলিশি অভিযান চালানোয় চঞ্চলকে তথ্য প্রদানকারী সন্দেহে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছুরিকাঘাত করা হয় বলে ধারণা করছেন তার পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয়রা চঞ্চলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আহত চঞ্চল রেলগেট পশ্চিমপাড়ার মৃত সবর মিয়ার ছেলে।
গত সোমবার যশোরের বহুল প্রচারিত দৈনিক কল্যাণ পত্রিকায় রবিউলের বিরুদ্ধে ষষ্ঠীতলার বুনোপাড়ায় ফেনসিডিল তৈরির সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে দফায় দফায় ষষ্ঠীতলা বুনোপাড়ায় অভিযান চলছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সংবাদও প্রকাশিত হয় দৈনিক কল্যাণে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, যশোর শহরের ষষ্ঠীতলার মৃত শফি মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম। পেশাদার একজন মাদক কারবারি। শুধু রবিউলই নয় ওই পরিবারে অন্তত অর্ধডজন মাদক কারবারি রয়েছে। তার মধ্যে রবিউলের স্ত্রী আকলিমা বেগম, বড় ভাই মৃত সাইফুল ইসলামের স্ত্রী হাচিনা বেগম, হাচিনা বেগমের বাড়িতে আশ্রিত রিপন, বন্দুকযুদ্ধে নিহত আরেক ভাই হাফিজুর রহমান মরার স্ত্রী রেখা বেগম, রেখার বোন সোনিয়া সরাসরি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, ফেনসিডিল এবং গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদকের কারবার করে আসছে তারা। পাশাপাশি রবিউল ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকা- করে আসছে। ইতিপূর্বে রবিউল চাঁচড়া মধ্যপাড়ায় আরেকটি বিয়ে করেছিল। সেখানে দ্বিতীয় স্ত্রীকে সাথে নিয়েও মাদকের কারবার করে। সেখান থেকে অনেকের টাকা পয়সা আত্মসাৎ করে বর্তমানে গা-ঢাকা দিয়ে ষষ্ঠীতলায় বসবাস করছে। আর কোডিন ফসফেট পাউডার, অন্যান্য উপকরণ, চিনির ঘন শিরা, স্পিরিট ও কর্পূরের মতো একটি পদার্থ যা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর দিয়ে তৈরি করছে নকল ফেনসিডিল। খয়েরি রঙের এই পাউডার হেরোইনের চেয়েও দামি। এক চা-চামচ পাউডার দিয়ে ১০ লিটার ফেনসিডিল তৈরি করা যায়। যা প্রায় একশ’ বোতলের সমান। বর্তমানে বাজার দরে ফেনসিডিলের বোতল বিক্রি হচ্ছে। একশ’ বোতলের দাম ৪০ হাজার টাকা।
রবিউল এরই মধ্যে কোতোয়ালি থানা, চাঁচড়া ফাঁড়ি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তার সোর্স হিসেবে কাজ করছে বলে এলাকায় প্রকাশ করে। আর ওইি সকল কর্মকর্তাদের সেল্টারে থেকে নকল তৈরি করা ফেনসিডিল দিয়ে অসহায় ও নিরীহ লোকজন ধরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ায়। গত দুই মাসে প্রায় ২০ জনের উপরে লোকজনদের বিরুদ্ধে রবিউল মামলা করিয়েছে। বিষয়টি দৈনিক কল্যাণ পত্রিকার নজরে আসে। ফলে গত ১৮ এপ্রিল কল্যাণ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে ওই এলাকায় দফায় দফায় অভিযান চালায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এতে পুলিশ এবং পত্রিকার সংবাদ প্রকাশে চঞ্চল তথ্য দিয়েছে বলে সন্দেহ করে রবিউল। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চঞ্চল ষষ্ঠীতলা বুনোপাড়া মোড় থেকে রেলগেট পশ্চিমপাড়ার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। এরই মধ্যে রবিউল এবং তার আরেক সহযোগি আশ্রম রোড এলাকার রাজনসহ কয়েকজনে চঞ্চলকে ঘিরে ধরে। এসময় পুলিশ এবং সাংবাদিকদের কেন তথ্য দেয়া হয়েছে বলেই ছুরিকাঘাত শুরু করে। একপর্যায় চঞ্চলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে চঞ্চলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে আহত চঞ্চল বলেছেন, রবিউলসহ তার পরিবারের অর্ধডজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার করে আসছিল। এলাকায় তাদের মাদকের কারবার করতে নিষেধ করা এবং দৈনিক কল্যাণ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ওই এলাকায় পুলিশি অভিযান চলে। এসব তথ্য দিয়েছি বলে রবিউল সন্দেহ করে ছুরিকাঘাত করেছে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার জসিম উদ্দিন বলেছেন, চঞ্চলের পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় তাকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে চাঁচড়া ফাঁড়ি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আকিকুল ইসলাম বলেছেন, চঞ্চলকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় সন্ত্রাসীদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।