নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার বানিয়ারগাতি গ্রামের গৃহবধূ সালমা আক্তার কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও মৃতের পরিবার হত্যা মামলা করেছিল। কিন্তু ভিসেরা রিপোর্টে হত্যার তথ্য না আসায় এই মামলার সাত আসামিকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আসাদুজ্জামান।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে সালমা আক্তার। দেড় বছর বয়সে হলে তার পিতা মারা যান। এরপর তার মা ফিরোজা বেগম অতিকষ্টে একটি জুটমিলে কাজ করে মেয়েকে লালন-পালন এবং নিজের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ২০১৫ সালের ১৯ জুলাই আসামি একই উপজেলার বানিয়ারগাতি গ্রামের আমির হামজার সাথে সালমা আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি মেয়ের জন্ম হয়।
বর্তমানে মেয়েটির বয়স সাত বছর। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুক বাবদ তার স্বামী আমির হামজাকে টাকা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র দেয়া হয়েছে। তারপরও আমির হামজা ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে স্ত্রী সালমার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর সালমাকে মারপিট করে কৌশলে গ্যাসট্যাবলেট খাওয়াইয়া দেয় স্বামী ও তার পরিবার। সালমার মা ফিরোজা বেগম সংবাদ পেয়ে আসামি আমির হামজার বাড়িতে গিয়ে সালমাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে সালমার লাশ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত করা হয়। এ ঘটনায় থানায় গেলে পুলিশ গ্রহণ না করায় গত ১১ জানুয়ারি ৭ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১ এ মামলা করেন। আদালতের আদেশে গত ৩ জানুয়ারি মামলাটি কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়।
তদন্ত শেষে ভিকটিম সালমার ময়না তদন্ত, ভিসেরা রিপোর্ট এবং সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার অভিযোগ না পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এই মামলার ৭ আসামির অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেছেন।
