রায়হান সিদ্দিক
সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে যশোর কালেক্টরেট পুকুর। ডাস্টবিন থাকলেও দর্শনার্থীরা পুকুরের পানিতে ফেলছেন ময়লা-আবর্জনা। এতে পুকুরের সৌন্দর্য্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে সেখানে থাকা রঙিন মাছগুলো।
সৌন্দর্য্য বন্ধনে গত বছর কালেক্টরেট প্রাঙ্গণের পুকুরটি জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আর্থিক সহযোগিতায় সংস্কার করা হয়। এরপর বিভিন্ন জায়গা থেকে ২০০টি পদ্মফুলের কন্দ সংগ্রহ করে পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুকুরে ছাড়া হয়েছিল আট হাজারের বেশি বিদেশি রঙিন মাছ। যার ফলে পুকুরের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন হাজারো দর্শক ভিড় করতে থাকেন। তবে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পুকুরটি সৌন্দর্য্য হারাতে বসেছে। পুকুরের পাড়ে ও পানিতে ফেলা হচ্ছে প্লাস্টিক পণ্য, চায়ের কাপ, সিগারেটের খোলাসহ নানা রকম বর্জ্য। দর্শনার্থীদের সচেতনতার অভাবে আগের সেই নয়াভিরাম দৃশ্য ধরে রাখা যাচ্ছে না।
কালেক্টরেট পুকুরের সৌন্দর্য্য রক্ষায় আমরা প্রায় পুকুরের ময়লা পরিস্কার করি। কিন্তু দর্শনার্থীদের কোনভাবেই নিয়মের ভেতরে আনা যাচ্ছে না। তবে পুকুরের সৌন্দর্য্য রক্ষার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়াসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে- এসএম শাহীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরের চারপাশে বসে আছে শত শত দর্শনার্থী। তাদের প্রত্যেকের হাতেই রয়েছে চা, সিগারেট, পানির বোতল, চিপসসহ নানা রকমের খাবার। সেই খাবার খাওয়া শেষে বর্জ্যগুলো ফেলে দিচ্ছেন পুকুরে। তার ভেতরেই ঘোরাফেরা করছে রঙিন মাছ। চলাচল করতে যেয়ে প্লাস্টিকে আটকে যাচ্ছে মাছগুলো। পুকুরের স্বচ্ছ পানিও ঘোলাটে হয়ে গেছে।
শহরের জেল রোডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কাজে এসে তীব্র তাপদাহের কারণে পুকুরের পাশে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পুকুরের সৌন্দার্য্য নিয়ে তার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘শহরের মাঝে এমন নান্দনিক দৃশ্য দেখা যাবে তা কখনো ভাবিনি। এখন পানিতে বর্জ্য দেখে কিছুটা হতাশ হয়েছি। আমরা কোনদিন সভ্য হতে পারবো না। সুন্দর জিনিসের কদর করতে শিখেনি আমরা।’
কিছুটা ক্ষোভের সুরে সিরাজুল ইসলাম বলেন, কালেক্টরেট ভবনের এই পুকুরটি যখন সংস্কার করা হয় তখন আমরা সবাই খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখানে আসা দর্শনার্থীরা সেই সৌন্দার্য্য নষ্ট করে ফেলছে। পাশাপাশি রয়েছে কর্তৃপক্ষের অবহেলা।
অপর একজন দর্শনার্থী জানান, ডিসি অফিসে ও আশেপাশের মার্কেটগুলোতে প্রতিদিনই কয়েক হাজার মানুষ আসেন। কিছু মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এখানে এসে আড্ডা দেয়ার সময় বিভিন্ন বর্জ্য পুকুরে ফেলছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কঠোরভাবে নজরদারি করা উচিৎ।
এদিকে আগত দর্শনার্থীদের বর্জ্য ফেলার জন্য পুকুরের চারপাশে ডাস্টবিনের ব্যবস্থাসহ পরিবেশ সুন্দর রাখতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম শাহীন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এখানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের যাতায়াত রয়েছে। পাশাপাশি যশোর কালেক্টরেট ভবনটি ঐতিহ্যবাহী একটি স্থাপনা হওয়ায় জেলা প্রশাসন বরাবরই জায়গাটি নান্দনিক করে সাজিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখানে আসা দর্শনার্থীদের অসচেতনতার কারণে কখনো কখনো সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়।
তিনি আরও বলেন, কালেক্টরেট পুকুরের সৌন্দর্য্য রক্ষায় আমরা প্রায় পুকুরের ময়লা পরিস্কার করি। কিন্তু দর্শনার্থীদের কোনভাবেই নিয়মের ভেতরে আনা যাচ্ছে না। তবে পুকুরের সৌন্দর্য্য রক্ষার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়াসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
