নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে অবস্থিত দেশ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আব্দুল আলিম নামে এক ব্যক্তি। শনিবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। তিনি মণিরামপুরের কাশিপুর গ্রামের মৃত আবু জাফরের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল আলিম লিখিত বক্তব্যে বলেন, চলতি বছরের ১৭ মে তার ভাইজি তাজরিন সুলতানা রুকু সন্তান সম্ভাবনার সময় ঘনিয়ে এলে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে আনার পর দেশ ক্লিনিকের দালালের খপ্পরে পড়ে রোগীকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করে ওই দিন রাতে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সকালে ডা. সন্দীপ কুমার পাল ওরফে এসকে পাল তার সিজার করেন এবং তাজরিন সুলতানা রুকুর কন্যা সন্তান ভুমিষ্ট হয়। পরদিন (১৮ মে) সকাল থেকে রোগীর অস্বাভাবিকভাবে পেট ফোলা শুরু হয়। বিকেলে ডা. শাহিন কবির রোগীর অবস্থা দেখে বলেন, রোগী পেটে গ্যাস হচ্ছে। তখন ওই চিকিৎসক পূর্বের সব ওষুধ পাল্টে দেন। নতুন পাল্টানো ওষুধ খাওয়ার পরে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। রাতে ডা. এসকে পাল রুকুর অবস্থা দেখার পর জানান, রোগীর ডায়রিয়ার লক্ষন। তিনি একটি ডায়রিয়ার স্যালাইন দেন এবং ছোট একটি কালো বোতলের দুই চামচ ওষুধ নিজ হাতে খাওয়ায়ে দেন। ওষুধ খাওয়ার পর থেকে আমার ভাইঝি শুধু বলে আমার গলায় কি যেন আটকে গেছে। আমি দম ছাড়তে পারছি না। এই ছিল ভাইঝির শেষ কথা। তারপর সে আর কথা বলতে পারেনি। পরবর্তীতে রোগীর অবনতি হলে তাকে খুলনা অথবা ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন তারা। তাকে খুলনা নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২০ মে) ভোর রাতে মারা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, এর কয়েকদিন পর কয়েকটি দপ্তর ঘুরে জেলা সিভিল সার্জন ও মণিরামপুর থানায় একটি অভিযোগ জানায়। তবে তার কোন প্রতিকার আমি পাইনি। পরবর্তেিত গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করি। বেশ কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ সেপ্টেম্বর দেশ ক্লিনিকের মালিক রাজুর দুই ভগ্নিপতি নুরুল ইসলাম মনু ও আক্তারুজ্জামান আমাকে নানান ভাবে ভয়ভীতি ও মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এবিষয়ে দেশ ক্লিনিকের মালিক রাজুর ব্যবহৃত ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
