১৫ পদের বিপরীতে লড়ছেন ৩২ প্রার্থী
সুনীল ঘোষ: আজ যশোর ট্যাক্সেস্ বার অ্যাসোসিয়েশনের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। দুপুর ১২টায় শুরু হবে ভোট গ্রহণ। বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা গতকালই শেষ হয়েছে। তবে বসে নেই প্রার্থীরা। চলছে ‘ওয়ান টু ওয়ান’। ছুটছেন ডোর টু ডোর। মুঠোফোনেও ভোট চাওয়া হচ্ছে। হার-জিতের অংক কষে কৌশলে এগুচ্ছেন প্রার্থীরা। কথা-বার্তাতেও সতর্ক সবাই। দুটি প্যানেলের ৩০ জনসহ ৩২ প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অনেকেই বলেছেন, ‘বাঘারপাড়া সলিট!’ তার মানে জয় সুনিশ্চিত। নির্বাচন পর্যবেক্ষক মহল বলছেন-এসব কথা ‘চটকধারী’ ও গুরুত্বহীন। কম ভোটের নির্বাচনে হার-জিতের আগাম পূর্বাভাস মেলে না বলেও অভিমত তাদের।
আজকের নির্বাচনে ১৫টি পদের বিপরীতে দুটি প্যানেলের হয়ে লড়ছেন ৩০ প্রার্থী। একটি প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট প্রশান্ত দেবনাথ। তারা বারের লাইসেন্স প্রাপ্ত। অপর প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইনজীবী অশোক কুমার দাস ও আইনজীবী বিএম আলমগীর সিদ্দিকী। তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লাইসেন্সে আয়কর অফিসে প্রতিনিধিত্ব করেন। অর্থাৎ যশোর ট্যাক্সেস্ বার অ্যাসোসিয়েশনে দুই শ্রেণির সদস্য রয়েছেন। এখানে অনেক মুহুরি (আইনজীবীর সহযোগী) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লাইসেন্স নিয়ে আয়কর উপদেষ্টা অর্থাৎ আইজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ আবার আয়কর অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারি ছিলেন। তারা ‘ল’ পড়েননি। নেননি বারের লাইসেন্স। অবসর গ্রহণের পর এনবিআর থেকে লাইসেন্স নিয়ে আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করছেন। দুই শ্রেণির সদস্য নিয়েই যশোর ট্যাক্সেস্ বার অ্যাসোসিয়েশন। যারা ‘ল’ পাসের পর বারের লাইসেন্স পেয়ে আয়কর অফিসে প্রতিনিধিত্ব করছেন তারা মুলধারার আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।
অপরদিকে চাকরি থেকে অবসরের পর এবং আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি) থেকে যারা রাজস্ব বোর্ডের লাইসেন্স নিয়ে আয়কর উপদেষ্টা হয়েছেন, তাদের পরিচিতি একটু ভিন্ন। অনেকেই তাদের অপেশাদার আইনজীবী হিসেবে দেখেন। মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ও প্রশান্ত দেবনাথ নেতৃত্বাধীন প্যানেলে অ্যাডভোকেটের সংখ্যা বেশি। অপর প্যানেলের খোদ সভাপতি প্রার্থী অশোক কুমার দাসসহ অন্তত ৩ জন আয়কর অফিসে চাকরি করতেন। অবসর গ্রহণের পর তারা রাজস্ব বোর্ডের লাইসেন্সে আইজীবীর দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদকে আরিফুর রহমান ও সহসাধারণ সম্পাদকে আব্দুল আলিম ভোট করছেন।
একটি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী জানান, যশোর ট্যাক্সেস্ বার অ্যাসোসিয়েশন প্রবীণ অ্যাডভোকেট তৌহিদুর রহমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে ১৯৭৪ সালে। তারপর কেটে গেছে প্রায় অর্ধশত বছর। সেই থেকে অ্যাসোসিয়েশনটি মর্যাদার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এর আগে আমি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। এবার প্যানেল দিয়েছি। সংগঠনের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করাই আমাদের প্যানেলের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তার প্যানেল নিরঙ্কুস সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলেও বেশ আশাবাদী তিনি।
অপর প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অশোক কুমার দাস জানান, এখানে অপেশাদার বলতে কেউ নেই। মুহুরি কখনো আইনজীবী হতে পারে না। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হওয়ারও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লাইসেন্সে আয়কর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করার সুযোগ রয়েছে। তাদের অপেশাদার বলা ঠিক না। তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার আলম জানান, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। অ্যাসোসিয়েশনের ৯৬ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।