একান্ত সাক্ষাৎকারে ঝিকরগাছা পৌর মেয়র আনোয়ার পাশা জামাল
আব্দুল ওয়াহাব মুকুল: ডিজিটাল পদ্ধত্তিতে পৌরবাসীর জীবনমান ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে বরাবরের মত সকলকে সাথে নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল। তিনি আসন্ন ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ও বর্তমান মেয়র।
আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ ২১ বছর দায়িত্ব পালনরত মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল শেখ হাসিনার স্নেহধন্য। ঝিকরগাছা পৌর নির্বাচনে তার নিষ্ঠা, সততা এবং কর্মদক্ষতার জন্য এবারও নেত্রী তাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন।
মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল বলেছেন, মানুষের চাহিদামত রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থবরাদ্ধ না থাকলেও বিভিন্ন দফতরে দেন দরবার চালিয়ে এতদিন যশোরের অন্যান্য পৌর এলাকা চেয়ে অনেক বেশি উন্নয়ন করা হয়েছে। আরো প্রায় শত কোটি টাকার কাজ এ মাসের শেষ দিকে শুরু হতে যাচ্ছে।
মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল দ্বিধাহীনচিত্তে বলেছেন, পৌরবাসী পুনরায় আমাকে তাদের সেবা করার জন্য নির্বাচিত করলে পৌর উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন ও জনকল্যাণে আমার দেয়া প্রতিশ্রুতি ইনশাআল্লাহ পালন করবো। এ ক্ষেত্রে আমাকে সহযোগিতা করতে নিষ্ঠা, সৎ ও যোগ্য কাউন্সিলর নির্বাচিত করার দায়িত্বও পৌরবাসীর। এতদিন প্রতি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে যেমন উন্নয়ন কাজ তদারকি হয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতেও তা নিশ্চিত করা হবে।
ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল পৌর অঞ্চলের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে তাদেরকে সাথে নিয়ে খেলাধুলা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড চালিয়েছেন সমান তালে। পাশাপাশি বৃদ্ধ ও বয়স্কদের জন্য ব্যবস্থা করেছেন ভোরে হাটাহাটি ও ব্যায়ামের ব্যবস্থা।
মেয়র পদে পুনরায় নির্বাচন করার বিষয়ে মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল বলেছেন, আধুনিক দৃষ্টিনন্দন পৌরসভা গড়াতে, মুটে-মজুর-শ্রমিক-কৃষিজীবী-হতদরিদ্র তথা পৌরবাসীর জীবনমান ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়ন তথা সেবা নিশ্চিত করা-ই আমার নির্বাচনে অংশ নেয়ার মূল উদ্দেশ্য।
মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, সহিংসতাসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সংস্থার উদ্যোগের সাথে একাত্ম হয়ে সকল কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে আগের মত কাজ করে যাবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল।
পৌরবাসীর জীবনমান ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়ন আপাতত সবচেয়ে বড় সমস্যা পৌর বজ্য ব্যবস্থাপনা। এ ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন, পৌরবাসীর নিত্যদিনের বজ্য অপসারণ করে তা ফেলার যায়গা পাওয়া যাচ্ছেনা। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, সরকারিভাবে যায়গা পাওয়ার।
পৌরসভার স্থায়ী ভবন নির্মাণে যায়গার সংস্থান হলেও ভবন নির্মাণের বড় অংকের অর্থের সংস্থান এখনও হয়নি। তবে আগামী জুন নাগাদ বড় ফান্ড পেয়ে যাবো, সেই সাথে পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ হবে ইনশাআল্লাহ।
মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল বলেছেন, পৌরবাসীর চিত্তবিনোদনের জন্য পৌর-পার্ক, কপোতাক্ষ নদের দু‘ধার দিয়ে ওয়াকিং স্ট্রিট ও একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণ এবং দৃষ্টি নন্দন করার সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা ইতিমধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য সুসজ্জিত শিশুপার্ক নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে থাকবে শিশুদের মননশীলতা বিকাশের সব ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান ও গর্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। শুধুমাত্র সেই বিবেচনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বৃদ্ধ অর্থাৎ সিনিয়ার সিটিজেনদের জন্য একটি হাসপাতাল ও সেবা কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে যার কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।
পৌরবাসী পুনরায় আমাকে নির্বাচিত করলে, পৌরসভার সকল সন্মানিত কাউন্সিলরদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্স নিদ্ধারণের যুগ উপযোগী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অহেতুক কারোর ওপর ট্যাক্সের বোঝা চাপানো হবে না।
