নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শুরু হচ্ছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল আর্থোস্কপি এবং অর্থোপ্লাস্টি বা লিগামেন্ট এবং জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের সার্জারি। লিগামেন্ট এবং জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের ওপর ফেলোশিপ শেষে সার্টিফিকেট ও স্কলারশিপ পেয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ প্রতীম চক্রবর্ত্তী। তিন মাসের ফেলোশিপ শেষে গতকাল বুধবার হাসপাতালে এসেই তিনি এ ঘোষণা দেন। এতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের রোগীরা নামমাত্র মূল্যে জটিল এ সার্জারি হাসপাতালে করাতে পারবেন।
ডা. পার্থ প্রতীম চক্রবর্ত্তী বলেন, আশা করা যায় এতে দক্ষিণ-পশ্চিমসহ এ এলাকার লিগামেন্ট এবং জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের সার্জারি রোগীদের কষ্ট লাঘব হবে। অর্থ ও সময় বাঁচবে এবং তারা দ্রুত সুস্থ হবেন। তিনি বলেন, ১টি লিগামেন্ট এবং জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের জন্য রোগীদের সাধারণত ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা খরচ হয়। আপাতত আমাদের এ হাসপাতালে আর্থোস্কপি এবং অর্থোপ্লাস্টি মেশিন নেই। তাই বাহিরের থেকে এ মেশিন ভাড়া করে আনতে হবে। এতে মেশিন ভাড়া বাবদ সামান্য কিছু খরচ রোগীদের বহন করতে হবে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ মেশিন হাসপাতালে স্থাপন করার পর বিনামূল্যে এ সেবা পাবেন রোগীরা।
এবিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের হাসপাতালের আরএমও ডা. পার্থ প্রতীম চক্রবর্ত্তী যে ফেলোশিপ অর্জন করেছেন তা বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক। তার মাধ্যমেই এ ফেলোশিপ শুরু হলো। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমসহ আমাদের হাসপাতালের গর্ব। তিনি আরো জানান, আমরা আর্থোস্কপি এবং অর্থোপ্লাস্টি মেশিনটির বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানাবো। মেশিনটি পেয়ে গেলে এ ধরনের রোগীরা সুফল পাবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ডা. পার্থ প্রতীম চক্রবর্ত্তীর আবেদনের পরিপেক্ষিতে ঢাকা আর্থোস্কপি এন্ড অর্থোপ্লাস্টি একাডেমি চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তাকে সিলেকশন করে। ১ এপ্রিলে তিনি বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির সভাপতি ও ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী শামীম উজ্জামান ও দেশের প্রথিতযশা আর্থোস্কপি এন্ড অর্থোপ্লাস্টি চিকিৎসক প্রফেসর ডা. হাসান মাসুদ, প্রফেসর ডা. পারভেজ আহসান, ডা. জিএম জাহাঙ্গীর হুসাইন, ডা. ওয়াকিল আহমেদ ও ডা. ফরিদুদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধায়নে ফেলোশিপে অংশ নেন। তিন মাসের ফেলোশিপ শেষে ৩০ জুন জমকালো আয়োজনের মধ্যে দেশের প্রথম আর্থোস্কপি এন্ড অর্থোপ্লাস্টি ফেলো’র হাতে বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির সভাপতি ও ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী শামীম উজ্জামান সার্টিফিকেট তুলে দেন। এটাই দেশের প্রথম কোন চিকিৎসক এ ফেলোশিপ অর্জন করলো।
