বৈরুতে ইসরাইলি হামলা । বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন আঘাত
কল্যাণ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, সৌদি আরব ও বাহরাইনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
ইরানে নিহত ৯৬, মোট মৃত ৭৪২
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)–এর বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের যৌথ হামলায় ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৮৫ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১১ জন সামরিক সদস্য।
সংস্থাটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নিহতের সংখ্যা ৫৫৫ জন বলে জানিয়েছিল। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সোমবারের হামলায় একাধিক সামরিক ঘাঁটি, দুটি আবাসিক এলাকা এবং বন্দর আব্বাসে অবস্থিত শহীদ বাহোনার পিয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে।
তেহরান থেকে তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
দফায় দফায় বিমান হামলার জবাবে ইরান তেল আবিবের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।
রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানায়, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল তেল আবিব ও ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চল। সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বৈরুতে ইসরাইলি হামলায় ৫২ নিহত
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভোরে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একদিনেই ৫২ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
এর আগে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ প্রায় দেড় বছর পর প্রথমবারের মতো ইসরাইলে রকেট নিক্ষেপ করে। এর পরপরই বৈরুতে হামলা শুরু হয়।
বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমবিবিসি নিউজ জানায়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস–সংযুক্ত সংবাদমাধ্যম ফার্স দাবি করেছে যে, বাহরাইনের শেখ ইসা অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানেরইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হামলায় কমান্ড ও স্টাফ ভবন এবং জ্বালানি ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুটি ড্রোন দূতাবাস কম্পাউন্ডে আঘাত হানে এবং সীমিত আকারে আগুন লাগে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউজনেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দূতাবাসে হামলা এবং চারজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই প্রতিক্রিয়া জানাবে।
রয়টার্স জানায়, হামলার পর রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে দূতাবাস ভবনটি খালি ছিল বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম দাবি করেছে। এর পর থেকেই সংঘাত বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে।
ইরান পাল্টা হামলা হিসেবে ইসরাইল, সৌদি আরব ও বাহরাইনের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
