নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ঈগল পরিবহনের স্বত্বাধিকারী অশোক রঞ্জন কাপুড়িয়া ও তার স্ত্রী রাধা রাণী কাপুড়িয়ার বিরুদ্ধে ৯ কোটি ২৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগে মামলা হয়েছে। সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কর্মাস ব্যাংক যশোর শাখার ক্রেডিট ইনচার্জ মো. আলিমুজ্জামান বুধবার যুগ্ম জেলা জজ-১ এবং অর্থঋণ আদালতের বিচারক খায়রুল ইসলামের আদালতে এ মামলা করেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর এনসিসি ব্যাংক চেক ডিজঅনার মামলা করেছিল অশোক রঞ্জন কাপুড়িয়ার ছোট ভাই আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পবিত্র কাপুড়িয়ার বিরুদ্ধে। তারা যৌথ মালিকানায় ব্যবসা পরিচালনা করেন।
ব্যাংকের আইনজীবী আবুল খায়ের বলেন, অর্ণব এন্টারপ্রাইজ নামে যে প্রতিষ্ঠান ঋণ খেলাপি; অশোক রঞ্জন কাপুড়িয়া ও তার স্ত্রী রাধা রাণী কাপুড়িয়া সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক। গতকালের মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে। অর্থঋণ আদালতের বিচারক খায়রুল ইসলাম তাদের নামে সমন জারি করেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি অশোক রঞ্জন কাপুড়িয়া ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কর্মাস ব্যাংক যশোর শাখা থেকে অর্ণব এন্টারপ্রাইজের নামে এলটিআর ঋণ নেন ৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার। ওই সময় তিনি মসুরির ডাল আমদানির জন্য এলসি করেন ১০ কোটি ৩১ লাখ টাকার। এরপর তিনি আর ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেননি। ঋণ ৩ বার পুনঃতফসিল করা হলেও তারা টাকা পরিশোধ না করে তালবাহানা শুরু করেন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ২২ মে তৃতীয় দফায় তাদের ঋণ পুনঃতফসিল করেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। শেষমেষ বুধবার ৯ কোটি ২৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ঋণ পাওনা দাবিতে মামলা করে ব্যাংক।
এরআগে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর এনসিসি ব্যাংক যশোর শাখা চেক ডিজঅনার মামলা করেছিল অশোক রঞ্জন কাপুড়িয়ার ছোট ভাই পবিত্র কাপুড়িয়ার বিরুদ্ধে। ২০ কোটি ৬০ হাজার টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে মেসার্স এমকে মোটরস ও ঈগল পরিবহনের স্বত্বাধিকারী পবিত্র কাপুড়িয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি করেছিল ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের যশোর শাখার পক্ষে নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান সাঈদ। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র বিচারক গৌতম মল্লিক অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামির প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, পবিত্র কাপুড়িয়া ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য এনসিসি ব্যাংকের যশোর শাখা থেকে এলসি, এলটিআর ও মেয়াদি ঋণ নেন। এ ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য তিনি আইএফআইসি ব্যাংকের ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকার চেক জমা দেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর চেকটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিলে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত (ডিজঅনার) হয়। পরে উকিল নোটিশের মাধ্যমে চেকের টাকা পরিশোধের জন্য বলা হয় পবিত্র কাপুড়িয়াকে। তবে নোটিশ গ্রহণ করে তিনি টাকা পরিশোধ না করায় ব্যাংকের পক্ষে এ মামলা করা হয়।
এ ব্যাপারে ঈগল পরিবহনের স্বত্বাধিকারী অশোক রঞ্জন কাপুড়িয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। আর পবিত্র কাপুড়িয়া বলেন, ব্যবসায়ে লোকসানের কারণে টাকা দিতে পারিনি।
