সাজেদ রহমান: এখলাস উদ্দীন ডায়েরি লেখেন ‘২৮শে মার্চ ষষ্ঠীতলা থেকে দশ জন নারীকে হানাদার পাক বাহিনী ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায় এবং অমানসিক ভাবে পাশবিক অত্যাচার করে ছেড়ে দেয়। নিজের চোখে সেদিন দেখেছিলাম তাদের করুণ মুখ, জানিনা তারা আজ বেঁচে আছেন কিনা। আমাদের নেতাদের অনেকের পরিবার পরিজনদেরও বর্বর সেনারা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়।
৩০শে মার্চ পর্যন্ত এমনিভাবে শুনতে পাচ্ছিলাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় বর্বর পাকসেনাদের লোমহর্ষক অত্যাচারের কাহিনী। গুমরে মরছিলাম, কারণ করবার কিছুই নাই। জানতাম না কারুর সন্ধান। স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ও ছাত্র নেতৃবৃন্দের কোন খোঁজ খবর তখনও আমার কাছে ছিলনা। প্রথম চেষ্টা করলাম পুলিশ এনামুল হক সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে, কিন্তু ব্যর্থ হলাম। ইপিআর ক্যাপ্টেন হাসমত আলী ও আওলাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ চেষ্টা করলাম, কিন্তু তাতেও ব্যর্থ হলাম। শুনতে পেলাম বেঙ্গল রেজিমেন্ট চৌগাছায় স্কিমে আছে। মা-বোনদের উপর এই অত্যাচারের সমুচিত জবাব একমাত্র তারাই পারে। দিন গুনছিলাম তাদেরই প্রতীক্ষায়। ৩০শে মার্চ সকাল বেলা কারফিউ একঘন্টার জন্য শিথিল করলো। আমি, লুৎফর রহমান ও ফারাজী শাহাদৎ হোসেনসহ বেজপাড়া জনৈক ভদ্রলোকের বাড়িতে যায়। বেলা দশটার দিকে হঠাৎ ক্যান্টনমেন্টের দিক থেকে মুহুর্মহু কামানের গোলার আওয়াজ শুনতে পাই এবং মাইকযোগে কারফিউ বলবৎ করার সংবাদ। আমরা তিনজন ছুটলাম ইপিআর হেড কোয়ার্টারের দিকে। ইপিআর বাহিনীও তখন সজ্জিত হচ্ছে যুদ্ধে যাবার জন্য।