সাজেদ রহমান: অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে মার্চের শুরুর দিকে স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস বা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করে। যশোরের প্রতিরোধ যুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নিউক্লিয়াস গ্রুপের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬২ সালে (মতান্তরে ১৯৬৪) নিউক্লিয়াস গ্রুপ ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে গঠিত হয়। প্রথম পর্যায়েই যে সমস্ত জেলায় অত্যন্ত গোপনে এর সেল গঠিত হয়, তার একটি যশোর।
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ও সমাজতন্ত্র কায়েমই ছিল সংগঠনের মূল লক্ষ্য। যশোরে ১৯৬৮ সালে নিউক্লিয়াস গ্রুপ যখন তার শাখা গঠন করে তখন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন গোপনে সব ধরনের সাহায্য দেন। অন্যদিকে একাত্তরে যে সব আওয়ামী লীগ নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদায় জেলা কমিটিতে ছিলেন তাদের অনেকেই ১৯৬৮ সালের প্রথমভাগে ছিলেন পিডিএম-এ। ১৯৭০ সাল নাগাদ নিউক্লিয়াস গ্রুপ ছাত্রলীগের জেলা ও থানা কমিটিগুলোর উপর প্রায় নিরষ্কুশ প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়।
নিউক্লিয়াস গ্রুপের কেন্দ্রীয় নেতা কাজী আরেফ আহমেদ যশোরের এই সংগঠন বিস্তারে মুল দায়িত্ব পালন করেন। যশোরের আরও একটি সংগঠনের নাম উল্লেখযোগ্য, যারা স্বাধীন ‘পুর্ববাংলা’ গঠনের ডাক দিয়েছিল ১৯৬৫ সালে। সংগঠনটির নাম ‘পূর্ববাংলা জাতীয় মুক্তি সংস্থা’ বা ‘জামুস’। অত্যন্ত গোপনে যশোর শহরের পুরনো কসবায় পিটারসন রোডে নাভারণ মেসে-এ যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজের ছাত্রদের নিয়ে গঠিত সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন দাউদ হোসেন। তাঁরা মুক্তির মহাসনদ নামে একটি প্রচারপত্র প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছাড়াও তাঁরা আওয়ামী লীগের বহু নেতার সাথে দেখা করে স্বাধীন পূর্ব বাংলা গড়ার আহবান জানান। তাঁদের তৎপরতা জানার পর পুলিশ অনেককে গ্রেফতার করে, তবে দাউদ হোসেনসহ অনেকে আত্মগোপন করেন। পরে দাউদ হোসেন মাকর্সবাদে দীক্ষিত হন এবং মারুফ হোসেন ও ডা. সাহফুদ দাহারের সাথে ‘কমিউনিস্ট কর্মী সংঘ’ গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালের ‘৯ পার্টি সমন্বয় কমিটি’ নামে স্বাধীনতা যুদ্ধে যে ফ্রন্ট অংশগ্রহণ করে, কমিউনিস্ট কর্মী সংঘ ছিল তার একটি সংগঠন।