ছোলজার রহমান: বেশ কটি দিক থেকে যাতায়াত সুবিধার কোন একটি স্থান বন্যামুক্ত, ছায়া-সুশীতল, পানীয় জলের ব্যবস্থা বিশিষ্ট হলে সেখানে মানুষের ওঠাবসা ও সমাবেশ গড়ে উঠতে থাকে এবং ধীরে ধীরে দু’একটি করে দোকান গড়ে উঠতে থাকে। চতুর্দিকে ৪/৫ টি গ্রামের মধ্যবর্তী অবস্থানে স্থানটি অবস্থিত হলে প্রত্যেকটি গ্রাম থেকে নিয়মিত আসা-যাওয়ার জন্য যোগাযোগের মেঠোপথ গড়ে উঠে। ক্রমশ সেখানে বিভিন্ন স্থানীয় পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়। এভাবে পণ্যদ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সেবার স্থায়ী অবকাঠামোর দোকান সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে স্থানটি সাময়িক বাজার-সার্বক্ষণিক বাজার-হাট হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং দূর-দূরান্তের ক্রেতা ও বিক্রেতার আগমন ঘটতে থাকে। একসময় অবকাঠামোর সাথে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা যেমন- বিদ্যুৎ, পরিবহণ ব্যবস্থা, শিক্ষালয়, ডাক্তার ও ঔষধালয়, খাবার দোকান, ছোট আকারের শিল্পও স্থায়ীরূপ নেয়। স্থানটির কৃষি বহির্ভূত এধরণের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে এটি প্রথমে প্রবৃদ্ধি মেরু বা উন্নয়ন মেরুতে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়। প্রবৃদ্ধি মেরু ও বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে পার্শ্ববর্তী অনেকদূর পর্যন্ত এলাকার মানুষ বিভিন্ন ধরণের পণ্যদ্রব্য ও সেবা ক্রয় বিক্রয়ের সাথে উপকৃত হয় এবং অর্থ আয়ের সুযোগ পেয়ে থাকে এবং কিছু সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ হয়। এতে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার চাহিদা ও বাজার সৃষ্টি হয়। মানুষের কর্মপ্রাপ্তি ও আয়ে গতিশীলতা আসে ও অর্থনৈতিক উন্নতি হয়। সড়ক, রেল, নৌ পথের যেটি সেখানে রয়েছে- তার উন্নয়ন সাধিত হলে চতুর্দিকে বসতি স্থাপিত হতে থাকে, ভূমি মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকে, সরকারিভাবেও উন্নত ও বড় বড় অবকাঠামো নির্মিত হলে সে স্থানটি ছোট শহরের মানে উন্নীত হয়। প্রবৃদ্ধি মেরু, উন্নয়ন কেন্দ্র, বাণিজ্য কেন্দ্র ও ছোট শহর ব্যবস্থাপনার জন্য নিলামের মাধ্যমে ইজারা কিংবা প্রশাসক কমিটি গঠণের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পেয়ে থাকে। পদ্মা সেতুর প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সকল জেলা-উপজেলার মানুষের ব্যাপক চলাচল ঘটতে থাকবে এবং উত্তর-পূর্বাংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাংশ থেকেও মানুষের আগমন ঘটবে। আগত লোকজনদের বিভিন্ন পণ্য ও সেবার প্রয়োজন দেখা দিবে। অর্থের বিনিময়ে সেসব প্রয়োজন মেটানোর মাধ্যমে আয় করার জন্য অনেক স্থানেই বিশেষ করে একাধিক রাস্তার মিলনস্থলে দোকানপাট গড়ে উঠতে থাকবে যা কালক্রমে প্রবৃদ্ধি মেরু ও বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হবে। সরকারের রাজস্ব আয়ের স্থান সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং আয় ও ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়োজিত কিছু লোকের কর্মসংস্থান হবে। এ অঞ্চলের যেসব পণ্যদ্রব্যের অন্য অঞ্চলে চাহিদা রয়েছে বা যেগুলো কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাওয়া যায় কিংবা অন্য অঞ্চল অপেক্ষা দামে কম সেসব পণ্য কেনার ও পরিবহণের ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, খাবার দোকান ও রাত্রিযাপনের আবাসিক হোটেল, ডাকঘর, গুদামঘর, ব্যাংক-বীমা, মোবাইল রিচার্জ, বিকাশ, নগদ, রকেট, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদির ব্যবস্থা গড়ে উঠতে থাকবে। অঞ্চল হতে থাকবে কর্মব্যস্ত ও গতিশীল এবং অর্থের যোগান ও বিনিময় বৃদ্ধি পাবে। কর্মসুযোগ বৃদ্ধি পাবে, বেকার সমস্যা ও দারিদ্র দূরীভূত হবে, মানুষের অলসতা দূর হয়ে কর্মে উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং এভাবেই হতে থাকবে অঞ্চলের উন্নতি।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর।
সর্বশেষ
- বিদ্যুৎ সাশ্রয় : সারাদেশে রাত ৮টার মধ্যে সব দোকান-শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্ত
- ইফার বই বিক্রয় সহকারী নজরুল কোটিপতির রহস্য কী ?
- এসএসসিতে নকল ঠেকাতে কঠোর যশোর শিক্ষা বোর্ড
- হেঁটে হেঁটে প্রধানমন্ত্রীর তদারকি
- জ্বালানিতে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী অমিত
- রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেল, যাত্রীর উদ্ধারে অভিযান শুরু
- ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে দেশব্যাপী এক মিনিট ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি
- ইরান যুদ্ধে কূল-কিনারা পাচ্ছেন না ট্রাম্প, খুঁজছেন বের হওয়ার পথ