নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বামী মাসুদ রানা ঢাকায় শনিবার রাতে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। এর একদিন পর সোমবার সকালে স্ত্রী ঐশী জলি আক্তার যশোরে নিজের ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলা লেবুতলা ইউনিয়নের বীর নারায়নপুর গ্রামে মৃত মাসুদ রানা ঢাকাতে চাকরি করতেন। টিকটকের মাধ্যমে তাদের দু’জনের পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে একসময়ে পরিণয়। এরপর ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের কিছু দিন যেতে না যেতেই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিভেদ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে ৯ নভেম্বর রাতে রানার সাথে ঐশীর মুঠোফোনে ঝগড়া হয়। অভিমান করে শনিবার মধ্যরাতে মাসুদ ঢাকার বাসায় ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। উল্লেখ্য, মাসুদ রানার সাথে বিবাহের আগে জলি আক্তার ঐশির আরো এক জায়গায় বিবাহ হয়েছিলো। সেখানে তার একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। জলি আক্তার ঐশি ঘোপ সেন্ট্রাল রোড বেলতলা এলাকার মৃত মোস্তফা দেওয়ানের মেয়ে।
মৃতের চাচা হাসান বলেন, আমার ভাইপো জলি আক্তার ঐশীকে প্রেম করে বিয়ে করার পরে আমরা জানতে পারি তার আগে এক জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। সেখানে তার তের-থেকে চৌদ্দ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। তাছাড়া সে দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবে ছিল। তারপরেও আমার ভাই ছেলে এবং বউমাকে মেনে নিয়েছিল। কিন্তু বউমা আবার বিদেশে যেতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে ছেলের সাথে ফোনে কথা কাটাকাটি হয়। এসব বিষয়ে অভিমান করে ছেলে গতকাল রাতে ঢাকার মিরপুরের বাসাতে আত্মহত্যা করেন। আমরা ঢাকায় বসে জানতে পারি বউমা বাড়ির আড়ায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। তবে অন্য কোন কারণ আছে কি না তা জানার চেষ্টা চলছে।
