নড়াইল প্রতিনিধি
প্রেমিকার মায়ের নির্দেশে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রেমিকের পায়ের রগ কাটার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাত ১১টার দিকে নড়াইল সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন আহত এসএসসি পরীক্ষার্থী আরিয়ান মোল্যার দাদী মাসুমা বেগম।
মামলার আসামিরা হলেন- জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল সদরের আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম পলাশ, শিবশংকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রেমিকার মা রুমানা পারভীন কেয়া ও তার ছেলে মোস্তাহিন হাবিব এলহান, দক্ষিণ নড়াইলের আফছার শেখের ছেলে তুষার শেখ, নুর ইসলামের ছেলে রয়েল শেখ ও একই এলাকার নিশি।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রেমিকার মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা পারভীন কেয়ার নির্দেশে গত ৫ ডিসেম্বর বিকেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রেমিক আরিয়ান মোল্যার পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। নড়াইল পৌরসভা সংলগ্ন কাড়ারবিলে মাছের ঘেরে নিয়ে আরিয়ান মোল্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয় সস্ত্রাসীরা। এ সময় তার হাতও কেটে ফেলার অপচেষ্টা চালায় তারা। আরিয়ান নড়াইল শহরের মহিষখোলা এলাকার মোহাম্মদ মোল্যার ছেলে। আরিয়ান নড়াইল পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী আরিয়ানসহ তার পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৫ ডিসেম্বর বিকেলে প্রাইভেটকারযোগে আরিয়ানকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় আসামিরা। এরপর কাড়ারবিলের মাছের ঘেরে নিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত আরিয়ান জানায়, গত ৫ ডিসেম্বর বিকেলে বাসায় ছিল সে। এ সময় আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম পলাশ বাড়িতে এসে আরিয়ানকে ডাকাডাকি করেন। কিছুক্ষণ পর দক্ষিণ নড়াইল এলাকার তুষার শেখ (৩৫) ও রয়েল মোল্যা (৩০) এসে আরিয়ানকে জোর করে প্রাইভেটকারে ওঠায়। তুষার ও রয়েল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলুর দেহরক্ষী। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রাইভেটকারে আরও দু’জন নারী ছিলেন।
এরপর আরিয়ানকে নড়াইল-গোবরা সড়কের কাড়ারবিলে মাছের ঘেরে নিয়ে যায় তারা। এ সময় তুষার, রয়েল ও এলান আরিয়ানের হাত-পায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় আরিয়ানের ডান পায়ের রগ কেটে গেছে। আরিয়ান বলে, জীবন বাঁচতে ওদের (সন্ত্রাসী) হাত-পা ধরেছি। অনেক বিনয় করেও রক্ষা পাইনি।
স্থানীয়রা জানান, নড়াইল শহরের আলাদাতপুর এলাকার স্কুলশিক্ষক রুমানা পারভীন কেয়ার মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আরিয়ানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আরিয়ানের পরিবার থেকে মেয়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি বেশি থাকায় তাদের প্রেমের বিষয়টি মেয়ের পরিবার ও আতœীয়- স্বজন মেনে নিতে পারেনি। এ কারণেই আরিয়ানকে অপহরণ করে পায়ের রগ কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। প্রেমিকার মায়ের নির্দেশেই প্রেমিক আরিয়ানের পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল সদরের আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম পলাশ বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মামলা দেয়া হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ওসি ওবাইদুর রহমান বলেন, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
