কল্যাণ ডেস্ক: দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে করপোরেট করের হার ‘কমানোর’ পাশাপাশি এর আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এসব প্রস্তাব আসে।
কর আহরণে নতুন খাতে নজর দেওয়া, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কর আদায়, করদাতাবান্ধব রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি জিডিপির অনুপাতিক হার বাড়ানোর পরামর্শ দেন তারা।
বৈঠকে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ভবিষ্যতের চ্যলেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।
“শিগগির বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যুক্ত হতে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর রপ্তানিতে অনেক সুযোগ-সুবিধা আমরা হারাব। ‘ওই সময়ে আমাদের ব্যবসায়ীদের কর সুবিধা দিয়ে টিকিয়ে রাখতে হবে। ওই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’
দেশে করপোরেট করের হার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, তাই কর্পোরেট কর হার কমিয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
গত দুই বাজেটে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কর কমিয়ে এখন দেশের করপোরেট কর হার ৩০ শতাংশ। আর শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, অথচ চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর করপোরেট কর হার ক্ষেত্রবিশেষে ১৫ শতাংশেরও নিচে।
দেশে জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব হার ১০ শতাংশের নিচে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর জিডিপির হার অন্যদেশের তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে। তাই আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। ব্যবসায়ীদের কর কমানোর দাবিকে ‘যৌক্তিক’ মনে করেন বলেও জানান অর্থনীতির এই গবেষক।
কর আহরণ ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা কর হার কমিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। কিন্তু আমাদের রাজস্ব আদায় কমেনি বরং বেড়েছে।
কর দাতা এবং সংগ্রহকারীর মধ্যে দূরত্ব ঘোচাতে হবে। কারণ করদাতা যদি মনে করে যে কর দিতে তার দূরে যেতে হবে, তাহলে তিনি কর দিতে উৎসাহ পাবেন না। বরং করদাতা যেখানে থাকেন সেখান থেকেই যদি কর পরিশোধ করার সিস্টেম থাকে তাহলে করাদাতা কর দিতে উৎসাহিত হবেন।