একান্ত সাক্ষাৎকারে নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির তুহিন
চুরি ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হমায়ূন কবির তুহিন। একই সাথে সকলের সহযোগিতায় দৃশ্যমান উন্নয়নের মাধ্যমে নওয়াপাড়া ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
দৈনিক কল্যাণকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক জেমস্ রহিম রানা ও মনিরুজ্জামান মনির।
প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের পাশে থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে চান তিনি। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান হিসেবে সকল দল মতের উর্দ্ধে থেকে কাজ করবেন। যেন ইউনিয়নের সব শ্রেণি পেশার মানুষের হৃদয়ের মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন এবং আগামীতে নির্বাচন করলে ইউনিয়নবাসীর কাছে ভোট চাইতে যেতে না হয়। নির্বাচনপূর্ব সকল ভেদাভেদ ভুলে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির মাধমে তিনি তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চান।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়ন অব্যাহত রাখাসহ জনগণের আশা আকাক্সক্ষা পুরণে নির্বাচনের আগে দেয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাবো।
প্রশ্ন : ইউনিয়ন পরিচালনায় আপনার পরিকল্পনা কি ?
উত্তর : ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনায় আমার নানাবিধ পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পরিষদের সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে ইউনিয়নের জনগণের চাহিদা মোতাবেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া সরকারি নিয়মনীতির আওতায় স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত স্ট্যান্ডিং কমিটির সমন্বয়ে পরিচালনা করতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাব। সকল বাজেট উন্মুক্ত আলোচনা করা হবে।
প্রশ্ন : আপনার ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা কি ?
উত্তর : অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাই এই ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা। এই ইউনিয়নের সকল রাস্তা ঘাটই অবহেলিত। এছাড়া বর্তমানে ইউনিয়নের অন্যতম সমস্যা মাদক এবং সামাজিক সম্প্রীতির অভাব। যে কারণে মানুষ তাদের অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমি এই পরিস্থিতি উত্তরণে সাধ্যমতো চেষ্টা করবো। পাশাপাশি এই ইউনিয়নের মানুষ কোথাও যেন চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি না হয় সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে।
প্রশ্ন : বাল্যবিয়ে রোধে আপনার কোন পরিকল্পনা রয়েছে কি ?
উত্তর : আমাদের সমাজে বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক সমস্যা। যা রোধ করা খুবই দুস্কর। তারপরও আমি আমার ইউনিয়নকে ১০০ ভাগ বাল্যবিয়ে মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবো। এ ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবে না।
প্রশ্ন : শিক্ষা সম্প্রসারণে আপনার পরিকল্পনা কি ?
উত্তর : শিক্ষা সম্প্রসারণে আমার নানাবিধ পরিকল্পনা রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে শিশুদের জন্য খেলাধুলা সামগ্রী দিয়ে থাকি। অনেক গরিব মেধাবীদের বই কিনে দিয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছি। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে গরিব শিক্ষার্থীদের স্কুলের বেতন, পোশাক, ভর্তি ফিসসহ নানা ধরনের সহযোগিতা করা হয়।
প্রশ্ন : সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আপনার পরিকল্পনা কি ?
উত্তর : সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আমার পরিকল্পনা হলো, এলাকার ভিজিডি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্দ্বী ভাতার সম বন্টনসহ আরএমপি প্রকল্পের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবো। তাছাড়া ইউনিয়নের সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ বেকার ছেলে মেয়েদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে যাতে কোন ঘুষ আদান প্রদান করতে না হয় তার চেষ্টা করা হবে।
প্রশ্ন : সামাজিক অবক্ষয় রোধে আপনার পরিকল্পনা কি ?
উত্তর : সামাজিক অবক্ষয় রোধে বিভিন্ন সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা এবং নৈতিক জ্ঞানের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করব। স্কুলের যে সব ছেলে মেয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দেয় তাদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের সতর্ক করার পর অভিভাকদের সচেতন করবো। তাতেও যদি কাজ না হয় তবে ভিন্ন ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
প্রশ্ন : ইউনিয়নবাসীর কাছে আপনার প্রত্যাশা কি ?
উত্তর : ইউনিয়নবাসীর কাছে আমার প্রত্যাশা হলো সব ধরনের রাজনৈতিক কলহ থেকে দুরে থাকার মাধ্যমে সরকারি নিয়ম কানুন মেনে চলাসহ সর্বস্তরের জনগনেণ সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ যেন আমাকে ভাল কাজে উৎসাহিত করে এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার জন্য পরামর্শ দেয়ার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ করে দেয়।
প্রশ্ন : ইউনিয়নবাসীর চিত্তবিনোদনের জন্য কোন পরিকল্পনা আছে কি ?
উত্তর : চিত্তবিনোদনের জন্য ইউনিয়নের পেছনের নদীর কূলকে আধুনিকায়ন করে দর্শক নন্দিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নদীর ধারকে একটি পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশ্ন : আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আপনার ভূমিকা কি ?
উত্তর : আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়নে যেসকল কার্যক্রম চলমান আছে তা আরও বেগবান করা হবে। মাদক বিক্রেতা ও ক্রেতা কারো সাথে কোন আপোষ করা হবে না।
প্রশ্ন : সরকারি গাছ চুরির প্রবণতা রোধসহ বৃক্ষ রোপণে কি ব্যবস্থা নেবেন ?
উত্তর : আমি দায়িত্বে থাকাকালীন এ ইউনিয়নের কোথাও কোন গাছ চুরির ঘটনা যাতে না ঘটে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশ্ন : স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসার ঘটানোর জন্য আপনার কোন চিন্তা আছে কি ?
উত্তর : স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসার ঘটানোর চিন্তা অবশ্যই আমার আছে। এই ইউনিয়নটিতে বর্তমানে প্রায় শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
প্রশ্ন : জনযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচি নেবেন কি না ?
উত্তর : জনযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রধিকার ভিত্তিক কর্মসূচি নেয়া হবে ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে। তাদের সমন্বয়ে ইউনিয়নবাসীকে উন্নত সেবা প্রদানের মাধ্যমে মডেল ইউনিয়ন উপহার দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যেন ইউনিয়নের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের হৃদয়ের মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি এবং আগামীতে নির্বাচন করলে ইউনিয়নবাসীর কাছে ভোট চাইতে যেতে না হয়।
প্রশ্ন : মডেল ইউনিয়ন গড়তে আপনার ভিন্ন কোন পরিকল্পনা রয়েছে কি ?
উত্তর : দীর্ঘদিন আগে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিয়নটিতে সমস্ত আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকার পরও কেন মডেল ইউনিয়ন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়। আমি চেষ্টা করবো যেন আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ইউনিয়নটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ অব্যাহত রেখে ইউনিয়নকে মডেল ইউনয়নে রূপান্তর করতে যা কিছু করতে হয় আমি তা করবো। আমি সরকারি খরচ ব্যতিত অবৈধভাবে কোন টাকা পয়সার লেনদেন কেউ যাতে করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর দৃষ্টি রাখবো।
প্রশ্ন : ইউনিয়নবাসীর জন্য আপনার প্রতিশ্রুতি কি ?
উত্তর : আমি নতুন নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়নবাসীকে সাথে নিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে চাই এবং দৃশ্যমান উন্নয়নের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে চাই। আমার স্বপ্ন ইউনিয়নবাসীর সহযোগিতায় মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস দমন ও সকল ধরনের রাজনৈতিক কলহ মুক্ত করে ইউনিয়নে সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তুলবো। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সকল অনুদানসহ সব ধরনের প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়ন করবো। স্বচ্ছতা প্রমাণের জন্য সকল প্রকল্প জনসমক্ষে বিলবোর্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
এক নজরে নওয়াপাড়া ইউনিয়ন
মোট আয়তন – ২৩ দশমিক ৮৮৫ বর্গ কিলোমিটার।
মৌজা – ১৯ টি
আবাদি জমি – এক ফসলী – ১০.১২ একর
দো ফসলী – ৪০৬.৮৮ একর
তিন ফসলী – ৩০৩.২৩ একর
চার ফসলী – ১১০.১২ একর
অকৃষি জমি – ১০৩.৯৫ একর
জনসংখ্যা – ৫৪ হাজার ৮৭৮
পুরুষ – ২৭ হাজার ৯৫২
নারী – ২৬ হাজার ৯২৬ জন
গ্রাম Ñ ১৯ টি
পাকা রাস্তা – ১১.৫ কিলোমিটার
আধাপাকা রাস্তা – ২৭.৫ কিলোমিটার
কাচা রাস্তা – ৬১ কিলোমিটার
শিক্ষার হার – ৮৬ %
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় – ১০ টি
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় – ৩টি
মাধ্যমিক বিদ্যালয় – ৮ টি
কলেজ – ৩টি
দাখিল মাদ্রাসা Ñ ৩ টি
হাফেজী মাদ্রাসা – ৯টি
কমিউনিটি ক্লিনিক – ৭টি
স্বাস্থ্য ক্লিনিক – ১টি
মসজিদ – ৭২ টি
মন্দির – ১০ টি
গীর্জা – ১টি
ক্লাব – ১৫ টি
এনজিও – ৫ টি
নলকূপ – গভীর- ২১টি
বিদ্যুৎ চালিত – ৯৩টি
ডিজেল চালিত – ৩৭৩ টি
হস্তচালিত – ১০ হাজার ৭৯০টি।