ক্রীড়া ডেস্ক: জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে কাতার বিশ্বকাপের। আসরের দ্বিতীয় দিনে রয়েছে পরপর তিনটি ম্যাচ। যেখানে খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭ টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি ইরান।
শক্তির বিচারে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও বড় দলগুলোকে হারানোর সামর্থ্য আছে ইরানের। এ ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চায় সাউথগেটের দল ইংল্যান্ড। তবে এই ম্যাচের আগে মনস্তাত্বিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পরতে পারে ইংলিশরা।
কাতারের কঠোর নিয়মের কারণে অনেক জোরাজুরি করলেও শেষপর্যন্ত রংধনু আর্মব্যান্ড না পরেই মাঠে নামবেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। ইংল্যান্ডের মতো আরো ছয়টি দেশ একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।
রংধনু আর্মব্যান্ডকে ওয়ান লাভ আর্মব্যান্ড বলেও ডাকা হয়। যার মাধ্যমে সমকামী প্রেমে সমর্থন জানানো হয়। আর কাতারে এ বিষয়টি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই কাতারের আদেশ অমান্য করে নামলে বড় শাস্তি পেতে পারতেন কেন।
বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে একাধিক কঠোর নিয়ম করেছে কাতার সরকার। বিয়ার খাওয়া নিষিদ্ধ থেকে বান্ধবীকে চুমু খাওয়া তার মধ্যে অন্যতম। এছাড়াও কাতারে আইন রয়েছে যে সেখানে সমকামী প্রেম নিষিদ্ধ। বিশ্বকাপ উপলক্ষে সেই নিয়মের আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে।
যদিও বিশ্বকাপের আগে থেকে বেশ কয়েকটি এলজিবিটিকিউ সংস্থা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। সেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও ওয়েলস।
গত মাসে ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড পরার জন্য ফিফার কাছে অনুমতি চেয়েছিল ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এফএর নির্বাহী মার্ক বুলিংহাম তখনই বলছিলেন, হাতে ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড পরার জন্য প্রয়োজনে জরিমানাও দিতে রাজি ইংল্যান্ড। কিন্তু ফিফা তাতে সা দেয়নি।
এদিকে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা এ বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের যে নিয়ম, আইন, সংস্কৃতি তা মেনে চলতে হবে সবাইকে। তাই শেষ পর্যন্ত কাতারের কাছে হার মানতে হলো উপরোক্ত দেশগুলোকে।
আরও পড়ুন: দুই দশকের শিরোপা খরা কাটবে ব্রাজিলের?