আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে সাগরদত্তকাটি আমতলা মাছের ঘেরের দখল নিয়ে জমির মালিক ও ঘেরমালিক দু’পক্ষই মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। কিছু কিছু জমির মালিক পুনরায় জমি লিজ দিতে রাজি না থাকায় ঘের মালিকের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে চলেছে। বিষয়টি নিরসনে উভয়পক্ষকে নিয়ে শালিসি বৈঠক করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার আশেক সুজা মামুন। কিন্তু উভয় পক্ষেরর উত্তেজনায় সে সভা পন্ড হয়ে যায়। এরআগে বিষয়টি নিরসনে সাগরদত্তকাটি আমতলা মাদ্রাসা মাঠে শতাধিক কৃষকের উপস্থিতিতে সভা হলেও প্রতিপক্ষ কৃষকরা কেউ উপস্থিত হয়নি। ফলে ঘেরের দখল নিয়ে যে কোন সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কেশবপুর পৌর এলাকার আলতাপোলের কামরুজ্জামান বিশ্বাস ২০১৬ সালে সাগরদত্তকাটি আমতলা বিলের ৩১০ বিঘা জমি এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে ৫ বছর মেয়াদে চুক্তিপত্র করে মাছের ঘের করেন। যার হারির টাকা গ্রহণ করেন ১শ’৮০ জন জমির মালিক। আগামী ৩০ চৈত্র ঘেরটির চুক্তিপত্রে মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। ঘেরের মেয়াদ দেড় বছর থাকাকালে ঘের কমিটির সভাপতি কিতাব্দী গোলদার ও তার ছেলে আমিনুর রহমানসহ ৫-৭ জন যুবক ঘেরটি কেশবপুরের অপর ঘের মালিক কেরামত গাজীর কাছে হস্তান্তরে জন্য করতে ইচ্ছুক। আবার কিছু জমির মালিক ও তাদের ওয়ারেশগণসহ কামরুজ্জামান বিশ্বাসের পুনরায় জমি লিজ দিতে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে পুনরায় আগামী ৫ বছরের জন্য ঘেরটি লিজ প্রদান করেছেন। সে মোতাবেক জমির মালিকরা তার কাছ থেকে হারির টাকা নিয়েছেন।
অপরপক্ষর ঘের কমিটির সভাপতি কিতাব্দী গোলদারসহ কিছু জমির মালিক পুণরায় জমি লিজ দিতে রাজি না থাকায় ঘের মালিক কামরুজ্জামান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ ঘের কমিটির সভাপতি কিতাব্দি গোলদার জমির মালিকদের মতামতের ভিত্তিতে ১৪২৪ সালে ৩২৫ বিঘা জমির এই ঘেরটি কামরুজ্জামান বিশ্বাসকে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য লিজ দেন। চুক্তি অনুযায়ী ধানী জমি ২০ হাজার ও খাল ভেড়ি ৪০ হাজার টাকা দেয়ার কথা থাকলেও ঘের মালিক সেটা দিচ্ছেন না। পরবর্তীতে ঘের কমিটির সদস্য নূর মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান আলতাফ গোলদারের সহযোগিতায় ঘের মালিক কামরুজ্জামান বিশ্বাস কৌশলে পুনরায় নতুন একটি ডিড করে ধানী ১৪ হাজার ও খাল ভেড়ী ৩০ হাজার ধার্য করে সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নতুন করে একটি ডিড করে। ডিড অনুযায়ী জমির মালিকদের হারির টাকা প্রদান না করে ঘেরের মেয়াদ পরবর্তী আরো ৫ বছর বাড়িয়ে নেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় সভাপতির অনুপস্থিতিতে গোপন মিটিং ডাকলে সেখানে জমির মালিকরা হাজির না হওয়ায় ঘের মালিক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। হারির টাকা নিদিষ্ট স্থানে না দিয়ে তার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে জমির মালিকদের তুলে নিয়ে পাঁজিয়া বাজারে নিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য নতুন ডিডে স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছেন। জমির মালিকরা অসাদুপায়ে ডিডে স্বাক্ষর করতে বাধা নিষেধ করলে মারপিট করা হচ্ছে। শনিবার ঘের কমিটির সভাপতি কিতাব্দি গোলদারকে ঘের মালিকের ভাড়াকৃত সন্ত্রাসী টিপু সুলতান, রফিকুল ইসলাম, রবিউল ইসলামসহ অজ্ঞাতানামা একদল ব্যক্তি তুলে নিয়ে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে খুন জখমের হুমকি দিয়ে নতুন ডিডে স্বাক্ষর করতে বলে। এসময় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের জরুরি আইনগত সেবা ৯৯৯ এ কল দিলে কিতাব্দি গোলদারকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার জমির মালিকরা ভিত হয়ে পড়েছেন। তারা সকলেই অজানা আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এঘটনায় জমির মালিকরা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নিরুপায় হয়ে কিতাব্দি গোলদারের ছেলে আমিনুর রহমান আতিয়ার কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ঘের মালিক কামরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার কথা সঠিক নয়। এমনিতেই ঘেরের জমির মালিকরা আরো ৫ বছরের জন্য ডিড করে দিয়েছে। ঘেরের ২৬০ জন জমির মালিকদের মধ্যে হাতে গোনা ১১-১২ জনের স্বাক্ষর হয়নি, তারাও স্বাক্ষর করে দিবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে কামরুজ্জামান বিশ্বাস এ ঘটনায় মনিরামপুর অঞ্চলের সহকারি পুলিশ সুপার আশেক সুজা মামুনের কাছে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে সহকারি পুলিশ সুপার আশেক সুজা মামুন ওই ঘেরের বিরোধ নিরসনে উভয়পক্ষের কৃষকদের নিয়ে এক সালিসি বৈঠক করেন। সভায় কিছু লোক ঘেরটি আগামী ৫ বছরের জন্যে কামরুজ্জামান বিশ্বাসের পক্ষে মতামত দিলে কৃষকদের উত্তেজনায় সহকারী পুলিশ সুপার সভাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দীন, কেশবপুর প্রেসক্লবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খান, এএসআই তাপস দে প্রমুখ।