আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ,কেশবপুর: দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দি পরও কেশবপুর সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারলেন না। সোমবার নূতন মুলগ্রাম স্থগিত কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী গৌতম রায় ২০২ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আলাউদ্দীন আলা চতুর্থবারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ইতিপূর্বে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের ৯ টি কেন্দ্রে গৌতম রায় ৫৪৮ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। গলোযোগের কারণে ওই ইউপি‘র ২নং ওয়ার্ডের (নতুনমূলগ্রাম) কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ প্রার্থী গৌতম রায় ৯টি ভোট কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আলাউদ্দীনের চেয়ে ৪৫৮ ভোট বেশী পেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
সুনিদিষ্টভাবে একাধিক সুত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে কেশবপুর সদর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের এমএনএ প্রয়াত সুবোধ কুমার মিত্র একবারই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর সদর ইউনিয়নে পরপর দুইবার মুসলিমলীগের প্রার্থী এসএম ইসহাক (উকিল সাহেব), পরবর্তীতে চারবার বিএনপি নেতা আব্দুস সামাদ বিশ্বাস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ইউনিয়নটি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দখলে রেখেছেন। দীর্ঘ ৪৯ বছরেও আওয়ামীলীগ অভ্যন্তরিণ কোন্দলের কারনে বিজয়ী হতে পারেনি।
সর্বশেষ সোমবার ঘোষিত বেসরকারী ফলাফলে বিএনপির সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আলাউদ্দীন আলা ৬১০২ ভোট পান। গৌতম রায়ের প্রাপ্ত ভোট ৫৯০১। চশমা প্রতিকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ৪ ভোট পেয়েছেন। আনারস প্রতিকের আয়ুব আলী ও হাতপাখা প্রতিকের আনিসুর রহমান তিনটা করে ভোট পেয়েছেন। আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরিণ কোন্দলের কারনে সামান্য ভোটে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী পরাজিত হন বলে দলটির একাধিক কর্মীরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে এ ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ৫৩৮৭ । স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আলাউদ্দীন আলা পেয়েছিলেন ৪৯২৯ ভোট। কেশবপুর ইউপি‘র স্থগিত ২নম্বর নূতন মুলগ্রাম ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ২১১৯ জন।