নিজস্ব প্রতিবেদক
৮০ মিনিট পর্যন্ত যশোর বঙ্গবন্ধু প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের ফাইনাল ম্যাচ ১-১ গোলে সমতায় ছিল। সেই সময় রাহুল স্মৃতি সংসদের কোচ কাজী মারুফ তার কৌশলে পরিবর্তন আনেন। শনিবার নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি নামানো রাব্বি খান তখন খেলছিলেন লেফট উইংয়ে। প্রতিপক্ষ সাখাওয়াত স্মৃতি সংঘের দুই-তিনজন খেলোয়াড় তাকে মার্কিংয়ে রাখছিল। তাতে কোনভাবেই ফরোয়ার্ডদের পাস দিতে পারছিলেন না। সেই সময় রাশিয়া বিশ্বকাপে অনূর্ধ্ব-১২ ফেস্টিভাল ফুটবলে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী রাব্বি খানকে বাম পাশ থেকে ডান দিকে নিয়ে যান কাজী মারুফ। তাতে আনমার্ক হয়ে যাওয়া রাব্বি খানের এক মাফা ক্রস চলে যায় স্বাধীনের পায়ে। তা থেকে প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ থাকা স্বাধীন গোল করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি। ৮৩ মিনিটে স্বাধীনের ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরের উপর মারা শটে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় যশোর শামস্-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির দল বলে পরিচিত পাওয়া রাহুল স্মৃতি সংসদ।
শেষ পর্যন্ত স্বাধীনের দেয়া এ গোলেই প্রথম শিরোপার স্বাদ পায় দলটি। টানা দ্বিতীয়বারের মতো রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় শহরের পালবাড়ি এলাকার সাখাওয়াত স্মৃতি সংসদকে।
শুরু থেকে ৪-৩-৩ ফরমের্শনে দল সাজান রাহুল স্মৃতি সংসদের কোচ কাজী মারুফ। তাতে ফরোয়ার্ড লাইনের মাঝখানে ছিলেন শিপন। বাম পাশে তানিম ও ডান পাশে স্বাধীন। স্বাধীনের সাথে এদিন অধিকাংশ সময় দলের মাঝ মাঠের প্রাণ ভোমরা হয়ে থাকা জাহিদকে বোতল বন্দি করার কৌশলে সফল হন শেখ সাখাওয়াতের কোচ আব্দুল মোনায়েম। তবে এই দুজনকে গার্ডে রাখতে যেয়ে বামপাশে থাকা তানিমকে দিয়ে অ্যাটাকিং করার চেষ্টা করেন। কিছু সময় পরে ডানপাশে থাকা স্বাধীনকে নিয়ে আসা হয় বাম পাশে। ডানপাশে যেয়ে দারুন এক গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে তানিম। ম্যাচের ২৫ মিনিটে তানিমের দারুন শট সাখাওয়াতের গোলরক্ষক দলকে বাঁচিয়ে দেন। এর তিন মিনিটে গোলের সুযোগ পায় সাখাওয়াত। প্রকাশের হেড গোলপোস্টে বাতাস লাগিয়ে বাইরে চলে যায়।
৩৩ মিনিটে আবারও রাহুল স্মৃতি গোলের সুযোগ পায়। ডানপ্রান্ত থেকে তানিমের পাসে ছোয়ালেই গোল হত কিন্তু স্ট্রাইকার শিপন তা করতে ব্যর্থ হয়। ৩৭ মিনিটে সেই ব্যর্থতা দারুন গোলে ভুলিয়ে দেন শিপন। বাম পাশে সাখাওয়াতের ডিফেন্ডার রাকিবের ভুলে বল পায় শিপন। সেখান থেকে দ্রুতগতিতে চলে যান ডি-বক্সেও ভিতর। সাখাওয়াতের গোলরক্ষক এগিয়ে আসতে দেখে প্লেসিং শটে গোল করেন শিপন। চেয়ে দেখা ছাড়া গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।
শিপনের এ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রাহুল স্মৃতি সংসদ। তবে প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে রাহুলের হৃদয় ভেঙ্গে গোল করেন সাখাতওয়াতের রাকিব। শেষ মিনিটে কয়েকটি আক্রমন তৈরি করে সাখাওয়াতের খেলোয়াড়রা। তা কখনো বারে বা গোলরক্ষক রক্ষা করছিলেন। এমনই এক বল গোলবারে লেগে ফিরে আসে। সেখান থেকে হেডে গোল করেন রাকিব। তাতে ১-১ গোলে সমতা থেকে বিরতিতে যায় দল দুটি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই দলের খেলায় পরিকল্পনার ছাপ ছিল না। বেশির ভাগ সময় বল মাঝ মাঠে ঘোরাঘুরি করছিল। এর মাঝে ৮৩ মিনিটে স্বাধীনের ওই গোলে শিরোপা উৎসবে মেতে উঠে রাহুল স্মৃতি সংসদের খেলোয়াড়রা। ম্যাচ শেষ হওয়ার বেশ কিছু সময় পর্যন্ত চলে তাদের এ উৎসব।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি অভয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পীরজাদা শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। যশোর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মঈনুর জহুর মুকুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রবিউল হাসান ও অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম মেহেদী মাসুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ফুটবল অ্যাসেসিয়েশনের সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান।
