ক্রীড়া ডেস্ক
দিন শেষের প্রায় ঘন্টা আগে পাকিস্তানের ইনিংস ঘোষণা পুরোনো আতঙ্ক ধরিয়ে দিয়েছিল। দিনের শেষ ঘণ্টায় দিক হারিয়ে কতবারই টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম হলো। রাওয়ালপিন্ডিতে শঙ্কা জয় করেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের শেষে ১২ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশের পুঁজি ২৭ রান। শুরুর ধাক্কা সামলানো গেছে। এবার লড়াই ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৪৪৮ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে ৪২১ রানে। পাকিস্তানকে ছোঁয়ার পথটা অনেক দূরের হলেও আশা জাগাচ্ছেন জাকির হাসান ও সাদমান ইসলাম এবং রাওয়ালপিন্ডির ব্যাটিং সহায়ক পিচ।
পড়ন্ত বিকেলে বাংলাদেশ ওপেনাররা কোন ভুল না করিয়েই কাটিয়েছেন ১২ ওভার। জাকির হাসানের দুবার অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করে পরাস্ত হওয়া ছাড়া ভয়ের কিছু ছিল না। দিন শেষে জাকির ৪২ বলে ১ চারে ১১ রানে অপরাজিত আছেন। ওদিকে নিঁখুত শট খেলা অপর ব্যাটার সাদমান ২ চারে অপরাজিত ১২ রানে।
অপরাজিত থেকে দিনটি শেষ করতে পারায় আত্মবিশ্বাস বাড়বে দুই ওপেনারের। নতুন বলে পাকিস্তান পেসাররা বরাবরই ভালো। শাহীন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহদের দারুণ ভাবে সামলে উইকেটটা বুছে নেওয়ার কাজ সেরেছেন সাদমান ও জাকির।
মোহাম্মদ রিজওয়ানের দুইশোর অপেক্ষা করেনি পাকিস্তান। তার আগেই রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা। রিজওয়ান ১৭১ রানে অপরাজিত থাকার সময় পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ ৬ উইকেটে ৪৪৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন।
টেস্টের দ্বিতীয় দিন প্রথম দুই সেশনের মতো তৃতীয় সেশনেও পরিশ্রম করতে হয়েছে বাংলাদেশ বোলারদের। চা বিরতির পর সাফল্যের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি অবশ্য। সাকিব আল হাসানের বলে সালমান আলি আগা ফিরেছেন মাত্র ১৯ রান করে। সাকিবের স্ট্যাম্পের বলে অন ড্রাইভ করতে গিয়ে মিস টাইম হয় সালমানের। পয়েন্টে ক্যাচ ধরেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
৪৪ রানের জুটি ভেঙ্গে লেজের ব্যাটারদের দ্রুত ফেরানোর লক্ষ্য ছিল নাজমুল হোসেন শান্তদের। কিন্তু শাহীন শাহ আফ্রিদি ব্যাটার ভূমিকায় সফল হলে হতাশা বাড়ে বাংলাদেশের। শাহীন দ্রুত ব্যাট চালিয়ে ২ ছক্কা ও ১ চারে ২৪ বলে ২৯ করে অপরাজিত ছিলেন। রিজওয়ানের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৫০ রানের। এদিকে রিজওয়ান ১৭১ রানের ইনিংসে টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান করা উইকেটেরক্ষক ব্যাটার হয়েছেন। ১৯৮০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১০ করেছিলেন তাসলিম আশরাফ। ১৯৫৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ করেন ইমতিয়াজ আহমেদ। এত বছর পর ২০০৯ সালে ১৫৮ রান করা কামরান আকমলকে টপকে গেলেন রিজওয়ান।
পাশাপাশি পুরো দিনে রাওয়ালপিন্ডির উইকেট পাকিস্তান ব্যাটারদের যেমন সহযোগীতা করেছে দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাটারদের জন্যও সেই আচরণ ছিল। উইকেটের আচরণ বলছে তৃতীয় দিনেও ধীর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নেই রাওয়ালপিন্ডি পিচের। এজন্যই এ মাঠে বেশি রান ওঠে। এই সুবিধাটা এবার বাংলাদেশ ব্যাটারদের কাজে লাগানোর পালা।
