এবার ব্যবসায়ীর দোকানে তালা দেয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘারপাড়া
কোন ভাবেই থামছে না বাঘারপাড়ার বন্দবীলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান তপনের দখল বাণিজ্য। আদালতে বিচারাধীন মামলা মোকদ্দমাও তিনি তোয়াক্কা করেন না। তিনি দম্ভো করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া ছাড়া তাকে কেউ কিছুই করতে পারবেন না। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গত বৃহস্পতিবার খাজুরা বাজারে এক ব্যবসায়ীর দোকানে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন এ বিএনপি নেতা।
বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্র মতে, বন্দবীলা ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের মৃৃত আহম্মদ মোল্যার দুই ছেলে হাসান আলী ও তরিকুল ইসলাম খাজুরা বাজারে মথুরাপুর মৌজায় ক্রয় সূত্রে ২৭ শতক জমির মালিক। জমির সামনের ভাগে চারটি দোকান ঘর রয়েছে। দোকান ঘর চারটি উভয়ে দুই ব্যবসায়ীর নিকট ভাড়া দিয়েছেন। একই জমির পাশেই ৪৬ শতক জমি রয়েছে রায়পুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ইব্রাহীম মোল্যার। ইব্রাহীম মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন ওই ২৭ শতক জমির মধ্যে তিনি আট শতক জমি পাবেন। এ আট শতক জমি দখল নেওয়ার জন্য ইব্রাহীম মোল্যা বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা চালিয়েছেন। তার এ দাবি অযৌক্তিক হওয়ায় তিনি কারো সহযোগিতা পাননি। এক পর্যায়ে গত ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন ইব্রাহীম মোল্যা।
সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরির্তন হওয়ায় নতুন করে জমি দখলের চেষ্টা চালান ইব্রাহীম মোল্যা। দুর্গাপুর গ্রামের কবির হোসেন ওরফে টাইগার কবিরের সহযোগিতায় বন্দবীলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামানের সাথে দফারফা হয় সাত লক্ষ টাকার চুক্তিতে। এক পর্যায়ে তিন লক্ষ টাকার লেনদেনও হয়। যে টাকা খাজুরা কেন্দ্রিক অনেকের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়। জায়গা দখল নিতে মনিরুজ্জামান তপন দীর্ঘসূত্রিতা করতে থাকেন। একপর্যায়ে বিএনপির আরেক শীর্ষ নেতা বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে শুরু করেন। এবার নতুন করে আরো চার লক্ষ টাকার লেনদেন হয় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার এ সম্পত্তি দখলের জন্য। এরপর গত বৃহস্পতিবার সকালে মনিরুজ্জামান তপন, টাইগার কবির, রেজা ও আলমঙ্গীর নামে দুই যুব নেতার উপস্থিতিতে ইব্রাহীম মোল্যার ছেলে রবিউল ইসলাম দোকান ঘরে তালা লাগিয়ে দেন।
এ ঘটনায় হাসান আলীর ছেলে মেহেদি হাসান রাকিব গত শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুকে স্বশরিরে বিষয়টি অবহিত করান। সাবেরুল হক সাবু এ সময় রাকিবের সামনেই মনিরুজ্জামান তপনকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানতে চান। এক পর্যায়ে তপনকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। শনিবার সকালে রাকিব বাঘারপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
রাকিবের চাচা আব্দুর রব ও তার পরিবার জানিয়েছেন, ইব্রাহীম মোল্যা যদি সত্যিকার অর্থে জমির পাওনাদার হন, তাহলে তো একটি সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে সমাধান হতে পারতো। তারপরেও যে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তা নিস্পত্তির আগেই এভাবে জোর করে দখল নেওয়ার বিষয়টি জেলা বিএনপির সভাপতির উপর ছেড়ে দিয়েছি।
চারটি দোকানের তিনটি ভাড়া নিয়ে মুদি ব্যবসা করেন মীর্জাপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে মনিরুজ্জামান তপন, টাইগার কবির, রেজা ও আলমঙ্গীর নামে দুই যুব নেতার উপস্থিতিতে ইব্রাহীম মোল্যার ছেলে রবিউল দোকান ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় তারা বলেন, আগামী মাস থেকে ভাড়ার টাকা ইব্রাহীম মোল্লাকে দিতে হবে। আর এক লক্ষ টাকা জামানত দিতে হবে। এ কথা বলে তারা চলে যান। পরদিন শুক্রবার সকাল থেকে ইব্রাহীম মোল্যার ছেলে রবিউল ইসলাম দোকান ঘরের পেছনে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করছেন। অপর ভাড়াটিয়ার নাম কামরুল ইসলাম। তিনি ফুটপথে কাপড়ের ব্যবসা করেন। রাতে ব্যবসা বন্ধ করার সময় ওই মালামাল ভাড়ার দোকানে রেখে যান। কামরুল জানিয়েছেন, তার কাছে জামানত চেয়েছে দশ হাজার আর ভাড়া আগামী মাস থেকে ইব্রাহীমকে দিতে।
এ বিষয়ে ইব্রাহীম মোল্যার ছেলে রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, আমরা মীমাংসার জন্য সকল প্রকার চেষ্টা চালিয়েছি। রাকিব সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করে। অভিযোগ মীমাংসার জন্য বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রেরণ করেন সেনাবহিনী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সে অভিযোগটি দেন বন্দবীলা ইউপি চেয়ারম্যানকে। চেয়ারম্যান মীমাংসা করতে না পেরে তা ফেরত দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। পরে অভিযোগ মীমাংসার জন্য দেওয়া হয় বন্দবীলা ভূমি অফিসে। সেখানেও কোন মীমাংসা হয়নি।
এ বিষয়ে বন্দবীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সব্দুল হোসেন খাঁন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। যে কারণে আমি আর এগোতে পারিনি।
এ বিষয়ে মনিরুজ্জামান তপনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। কয়েকবার চেষ্টার করেও তার সংযোগ পাওয়া যায়নি।
