নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে ফেলার ঘটনায় আবারও স্ক্যান হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘেরাও এবং তান্ডব চালিয়েছে ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনেরা। সোমবার বিকেলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বিপরীতে স্ক্যান হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে প্রায় ১২ থেকে ১৪ জন স্ক্যান হাসপাতালের মধ্যে ঢুকে আহাজারি শুরু করে। এ সময় তারা দোতালায় গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লোকজন অপারেশন থিয়েটার ও ডাক্তারের চেম্বারের মধ্যে গা-ঢাকা দিয়ে থাকে। এ সময় বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময় সকলের ডাকাডাকিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লোকজন সামনে আসে।
ভুক্তভোগী সরোগীর বড় বোন তহমিনা খাতুন বলেন, আমার বোন এখন ঢাকায় পিজি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। সেখানে ডাক্তাররা আমার বোনের শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে তাকে আর হাসপাতালে রাখতে চাচ্ছে না। এদিকে স্ক্যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের এক লক্ষ টাকা দিয়ে দায় সেরে আমাদের আর কোন খোঁজ খবর নেননি। আমাদের বোনের জীবন ভিক্ষা চাই।
এদিকে হাসপাতাল ঘেরাও এবং রোগীর স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্ক্যান
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুলফিকার আলী বলেন, আমরা থানায় বসাবসির মাধ্যমে এক লাখ টাকা ভুক্তভোগীদের প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করে সাক্ষী সমেত সই সাক্ষর করে আপোষনামা করে নিয়েছি। ্আজ তিন মাস পর আবারও নতুন করে তারা এসে বিশৃঙ্খলা করলে কি বলার আছে। আপোষনামা হওয়ার পর আমাদের সাথে এমন আচরণে হাসপাতালের শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, যশোরে গত ৭ জানুয়ারি স্ক্যান হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নাজমা খাতুন (৩০) নামে এক প্রসূতির সিজার করতে গিয়ে খাদ্য নালী কেটে ফেলেন ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহাফুজা মনি। ভুক্তোভোগী প্রসূতি নাজমা খাতুন মনিরামপুর উপজেলার ফরিদ আহমেদের স্ত্রী। নাজমা প্রসূতি অবস্থায় যশোর শহরের খালধার রোড বরফ কলের পাশে একটি ভাড়া বাসায় তার মা আনোয়ারা বেগমের সাথে থাকতেন।