নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনায় চার মাসে অর্ধশতাধিক তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এদের মধ্যে বেশি ভাগের বয়স ১২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। ছোট ছোট কারণে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে খুলনা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের পরিসংখ্যানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এটা পাওয়া যায়।
খুলনা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১৬৯টি ময়নাতদন্তের মধ্যে ৯০টি আত্মহত্যার ঘটনা। এর মধ্যে ৬৬ জনই ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সী। বেসরকারি তথ্যমতে এই সংখ্যা শতাধিক। যার বড় অংশই শিক্ষার্থী।
পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করছে প্রেমঘটিত মান অভিমান ও পারিবারিক বিরোধের জেরে। এ ছাড়াও পড়াশোনার চাপ, বেকারত্ব, নিঃসঙ্গতা, তীব্র বিষণœতা, প্রতারণাসহ বিভিন্ন কারণেও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তারা। এসব আত্মহত্যায় অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ছে পুরো পরিবারে। সন্তান, ভাই, কিংবা বোনকে হারিয়ে মানসিক যন্ত্রণায় থাকেন পরিবারের অন্য সদস্যরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন বর্তমান সময়ে একদিকে ছেলেমেয়েরা ব্যস্ত ভিডিও গেমস, মোবাইল অ্যাপস, কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে, অপরদিকে বাবা-মাও ব্যস্ত তাদের নিজস্ব জগৎ কিংবা কর্মক্ষেত্রে। এই আসক্তি দূরের বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল করে তুলছে পারিবারিক বন্ধন ও সম্প্রীতি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক উদ্যোগ, পর্যাপ্ত কাউন্সিলিং এবং গণমাধ্যমে আত্মহত্যার খবর প্রচারের ধরন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে সরকারি সুন্দরবন কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, জীবনের একটি পর্যায়ে এসে সন্তানরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় তাদের পারিবারিকভাবে যেমন খেয়াল রাখা প্রয়োজন তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও কাউন্সিলিং সেন্টার তৈরি করে সেবা দেয়া প্রয়োজন।
খুলনা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের প্রভাষক ডা. জয়িতা সাহা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেলে ময়নাতদন্তের বড় অংশই তরুণ। সেজন্য তাদের মানসিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনে সেবা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
