নিজস্ব প্রতিবেদক
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিজের পরিবার, সন্তান এমনকি ব্যক্তিগত শারীরিক কষ্টের কথাও ভাবেননি; বরং দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে তিনি কার্যত আত্মত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মরহুম খালেদা জিয়া ও জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশন পরিচালনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথমে সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সকল সংসদ সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। অল্প বয়সে স্বামীকে হারানোর পর দুই নাবালক সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাজপথে নেমেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের ফলেই তৎকালীন শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ-এর পতন ঘটে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি স্মরণ করেন যশোরের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম-কে। তিনি বলেন, তরিকুল ইসলামের সন্তান হিসেবে তিনি ছোটবেলা থেকেই খালেদা জিয়ার সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জনগণের ভোটে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া শিক্ষা বিস্তার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, যা আজও মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা ও সাহসিকতা সারা বিশ্বের কাছে উদাহরণ হয়ে রয়েছে। নিজের পরিবার বা ব্যক্তিগত জীবনের কথা না ভেবে তিনি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে গেছেন।
সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বলেন, তার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কারণেই তিনি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দিকনির্দেশনাহীন সময়ে দেশের মানুষ তার দিকনির্দেশনার প্রতিই আস্থা রেখেছিল। তার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, তিনি দেশের মানুষের কাছে একজন অভিভাবকের মর্যাদা পেয়েছিলেন।
বক্তব্যের শেষদিকে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তস্নাত পথ পেরিয়ে আজ জাতীয় সংসদে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়ায় তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। একই সঙ্গে যশোর-৩ আসনের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা তাকে সংসদে এসে তাদের পক্ষে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন।
সর্বশেষ
- বিদ্যুৎ সাশ্রয় : সারাদেশে রাত ৮টার মধ্যে সব দোকান-শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্ত
- ইফার বই বিক্রয় সহকারী নজরুল কোটিপতির রহস্য কী ?
- এসএসসিতে নকল ঠেকাতে কঠোর যশোর শিক্ষা বোর্ড
- হেঁটে হেঁটে প্রধানমন্ত্রীর তদারকি
- জ্বালানিতে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী অমিত
- রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেল, যাত্রীর উদ্ধারে অভিযান শুরু
- ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে দেশব্যাপী এক মিনিট ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি
- ইরান যুদ্ধে কূল-কিনারা পাচ্ছেন না ট্রাম্প, খুঁজছেন বের হওয়ার পথ
