নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রায় এক মাসের বেশি সময় তীব্র তাপপ্রবাহে পোড়ার পর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ভিজেছে যশোর। ভারী বৃষ্টির দেখা না মিললেও গতকাল শুক্রবার প্রায় ১ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টিপাত আর মাঝারি বাতাসে জনজীবনে এনেছিলো স্বস্তি। বিকাল ৪ টা থেকে শুরু হওয়া এ বৃষ্টির পর গড় তাপমাত্রা অনেকটা কমে। এর আগে বিগত কয়েকদিন সূর্যের প্রখরতায় আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবনের অবস্থা হয়েছিলো হাঁসফাঁস। গত বৃহস্পতিবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ক্রমাগত লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
টানা তিন সপ্তাহ ধরে সারাদেশের সঙ্গে যশোর অঞ্চলেও তাপপ্রবাহে জনজীবন হাঁসফাঁস অবস্থায় ছিল। সূর্যের প্রখরতায় মানুষ অসহায় ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই আকাশ মেঘলা হলেও শুক্রবার বিকালে বৃষ্টির দেখা মেলে। আকাশে মেঘাচ্ছন্ন আর মাঝারি বাতাস প্রবাহ দেখে অনেকেই ভেবেছিলো ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে হতে পারে ভারীবৃষ্টি। তবে ভারী বৃষ্টিপাত না হলেও ঘণ্টা দুয়েক ফোটা ফোটা বৃষ্টি হয়েছে। তবে চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলাতে কয়েক মিনিট ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। যশোর বিমান বাহিনী নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া অফিস মতে, বিকাল ৪টা ১৪ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলায় প্রায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তারা বলছে, এই বৃষ্টিপাত যতসামান্য। আর বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ। সন্ধ্যার পরেও আকাশ মেঘলা থাকতে দেখা গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ শনিবারও যশোরের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। বিকালের পরে বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী দুই দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কমে যাবে।
এদিকে, টানা তিন সপ্তাহ পরে তীব্রতাপদহের পরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর মাঝারি বাতাসে জনজীবনে এনেছিলো স্বস্তি। বিকালে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে অনেকের ভিজতেও দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ মানুষের চাওয়া গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি নয়; ভারী বৃষ্টি নেমে আসুক। যশোর কালেক্টরেট ভবনে বৃষ্টির বাধাতে আটতে থাকা সালমান হাসান নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, কয়েকদিন যে গরম পড়েছে। এর মধ্যে শোডশেডিং। তাপদাহে কোথাও এতটুকু স্বস্তি ছিল না। গরমে কষ্ট পাচ্ছিলেন সবাই। বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছেন অনেকেই। তাই সেই দীর্ঘ প্রত্যাশার বৃষ্টি পেয়ে স্বস্তি সবার মাঝে। অনেকেই ভিজেছেন শান্তির বৃষ্টিতে। তবে চাওয়া এই বৃষ্টি আরো হোক। সেলিম হোসেন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শুক্রবার ঘুরতে বের হয়েছিলাম। তার পরে বৃষ্টির বাধায় আটকে আছি। তবে এটা কোন সমস্যা মনে করছি না। গরমে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। ভারী বৃষ্টি হলে তাপদাহ অনেকটা কমে যাবে। যশোর আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘এই বৃষ্টিতে কৃষিতে কোন উপকারে আসবে না ; আবার কোন ক্ষতিও হবে না। মাঠে গ্রীষ্ঠকালীন সবজি আর পাট চাষ হচ্ছে; তীব্র তাপদাহে সেগুলো পুড়ে যাচ্ছিলো। একটু ভারী বৃষ্টিপাত হলে সেই সবজি চাষে উপকৃত হবেন চাষিরা। সেগুলো সতেজ হবেন।
