আব্দুল্লাহ সোহান,মণিরামপুর: তীব্র গো-খাদ্য সংকটে ভবদহ বিল পাড়ের গ্রামগুলো প্রায় গোয়াল শুন্য হয়ে পড়েছে। শীত মৌসুমেও বাড়ি-ঘর থেকে পানি না সরায় মানুষের পাশিপাশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে গবাদি পশুও। বিল পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ধানের আবাদ না হওয়ায় ভবদহ অঞ্চলে গো-খাদ্য সংকটের কারণ । এ কারণে ভবদহ অঞ্চলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিচালি (খড়) এনে বিক্রি করা হয়।
এ বছর বাড়ি-ঘর থেকে পানি না সরায় ভবদহ বিল পাড়ের ৯০ শতাংশ গবাদি পশু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে ভূক্তভোগিরা।
বিল এলাকার কোন বাড়িতে ছাগল নেই। কিছু বাড়িতে গোয়াল ঘরে গরুর দেখা মিললেও তা পালনে বেগ পেতে হচ্ছে বলে ভূক্তভোগিরা জানা। বাড়ির উঠানে হাটু পানি থাকায় গোয়াল ঘর থেকে গরু কখনোই বের করা হয় না। এর ফলে দিনের পর দিন গোয়াল ঘরে রেখেই গরু লালন-পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
হাটগাছা গ্রামের মহেনতারা মন্ডল, রেনু মন্ডল, সুজাতপুর গ্রামের পূর্ণিমা মন্ডল বলেন, নিজেরাতো কষ্টে আছি, তারপরও গবাদি পশু নিয়ে আছি চরম বিপদে। প্রায় সব গরু বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাড়ির বাচ্চাদের দুধের জন্য গাভি রাখা হলেও তা পালনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর সাথে গো-খাদ্যের রয়েছে চরম সংকট। বেশি দামে বিচালি কিনে গরু পালতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কুলটিয়া গ্রামের শিক্ষক হরিচাঁদ মন্ডল বলেন, আমাদের গ্রামে ছাগলতো নেই, দুই/এক বাড়িতে গরু থাকলেও তা পালনে চরম কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।
এদিকে ভবদহ এরাকায় বছরের পর ধানের আবাদ না হওয়ায় বিচালির (খড়) চরম সংকট রয়েছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিচালি এনে এখানে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। বাধ্য হয়ে কিনতে হয় এলাকার ভূক্তভোগিদের।
সপ্তাহের প্রতি রোব ও বুধবারে মশিয়াহাটি বহুমূখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিচালির হাট বসে। বিচালি বিক্রি করতে আসা খেদাপাড়া গ্রামের বাবলুর রহমান বলেন, এখন সবখানে বিচালির সংকট। আমরা রাজশাহি,নওগাঁ থেকে বিচালি কিনে এখানে বিক্রি করছেন। প্রতি কাউন সাড়ে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করি।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আবুজার সিদ্দিকী বলেন, ভবদহ বিলপাড়ের গ্রামগুলোতে গবাদি পশু নেই বললেই চলে। যা ছিল গেলো বারের আকাশ বৃষ্টির পর বিক্রি করে দিয়েছেন স্থানীয়রা।