কয়রা প্রতিনিধি: আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে কয়রার কপোতাক্ষ নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলার ৭ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। সোমবার বিকেল ৪ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কয়রা-পাইকগাছার সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাবু।
এ সময় প্রধান অতিথি আকতারুজ্জামান বাবু বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা বা বিভাগে সুনাম অর্জন করে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কয়রার সুন্দরবন টাইগার নৌকা। আর এই আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতেই আজকের আয়োজন। নৌকা বাইচ খেলা দেখতে আসা লোকজনের উপস্তিতিএবং তাদের আনন্দ উপভোগ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম মোহসিন রেজা, উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম সাইফুল্লাহ, কয়রা থানা অফিসার ইনচার্জ এবিএমএস দোহা (বিপিএম), কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম বাহারুল ইসলাম, মহেশ^রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, আমাদী ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল, উত্তর বেদকাশি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, দক্ষিণ বেদকাশি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আঃ সালাম খানসহ পরিষদের ইউপি সদস্য ও রাজনৈতিকবৃন্দ।
এরপর শুরু হয় চোখ জোড়ানো নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। কাশার ঢং ঢং এবং দাঁড়িয়াদের বৈঠার ছলাত ছলাত। যা উপভোগ করতে কপোতাক্ষ নদীর তীরে একপাশে কয়রা উপজেলা নদীর অপর তীরে আশাশুনি উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক দর্শনার্থী জড়ো হন।
তারা তীরবর্তী রাস্তা, বিভিন্ন ঘাট, এবং নৌযানের ওপর বসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। এ সময় নৌকা বাইচ নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলার মহেশ^রীপুরের সুন্দরবন টাইগার, দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া তারা পায় ৬০ হাজার টাকা, তৃতীয় কয়রার সোনার বাংলা ৩০ হাজার টাকা।