কল্যাণ ডেস্ক: হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের করা আবেদন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আজ মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় এসেছে। আজ শুনানি হতে পারে আবেদনটির ওপর ।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে চিত্রনায়িকা নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত গতকাল সোমবার স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আজ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন চিত্রনায়িকা নিপুণ।
নিপুণের আবেদনটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ৪২৬ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। আজ আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
নিপুণের অন্যতম আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান সকালে বলেন, ‘চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় এলে আজ আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।’
গত ২৮ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ জানুয়ারি ভোরে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ ফলাফলে জায়েদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
এ নিয়ে পরে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন নিপুণ। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ২ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে আপিল বোর্ডকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়।
৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ড জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২ ফেব্রুয়ারি চিঠি ও আপিল বোর্ডের ৫ ফেব্রুয়ারি দেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল রিট করেন জায়েদ খান।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী নাহিদ সুলতানা। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মজিবুল হক ভূঁইয়া। নিপুণের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ।
জায়েদ খানের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।
জায়েদ খানের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা না দিতেও হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন বলে গতকাল জানান তাঁর আইনজীবী আহসানুল করিম। তিনি গতকাল বলেন, ২ ফেব্রুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তর এক চিঠিতে জানায়, নির্বাচনী আপিল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ড জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণ আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে। ওই চিঠি ও বোর্ডের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের চিঠি ও আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন আদালত। বিবাদীদের এক সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।