মাদক ব্যবসা থেমে নেই। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশ বিভাগকে এর বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা নিতেও দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তার পরও কেন এ অবস্থা তা ভাববার বিষয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাদক ধরছে, ধ্বংস করছে, বহনকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবু এ মাদকটির স্রোত থামছে না। বেশি দূরে নয় যশোর শহরতলীর ইউনিয়ন চুড়ামনকাটিতে এই ব্যবসা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইউনিয়নটির এমন কোন গ্রাম নেই যে গ্রামে মাদক ব্যবসা চলছে না।
মাদক ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র আছে। ভারত থেকে মাদক আসছে স্রোতের মতো। প্রকৃত মালিক রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। সীমান্তের একটি সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় রয়েছে মাদক চোরাচালানের হোতারা। তারাই ভারত থেকে বড় বড় চালান নিয়ে আসছে। কিছু ধরা পড়লেও দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে যাচ্ছে। যার একটি অংশ যাচ্ছে এই চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে। নিকট অতীতে এখানে মাদকের ওপেন মার্কেট ছিল ছিল। প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে এখন প্রকাশ্যে বেচাকেনা না হলেও চলছে কৌশলে। গ্রামগুলোর মধ্যে বাগডাঙ্গা গ্রামে কারবারটা চলছে বেশ জোরেশোরে। দৈনিক কল্যাণে এমন একটি প্রতিবেদন ২ মার্চের সংখ্যায় প্রকাশ হয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর ধরে সেখানে চলছে এই ব্যবসা। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান গ্রহণ করলেও ফল কিন্তু সন্তোষজনক নয়। এ ব্যবসাকে ডেডস্টপ করতে হবে। এদের যদি দমন করা যেত তা হলে এতদূর এগোতে পারতো না। বিকশিত হবার আগেই হারিয়ে যায়, কত উদীয়মান প্রতিভা। বিধবা হয় কত নারী, কত শিশু এতিম হয়। মাদকাসক্তরা পরিবার সমাজে অস্বাভাবিক জীবনযাপনের শিকার হয়।
আমরা মনে করি অহেতুক চুনো পুটির পেছনে দৌড়িয়ে মাদক দমনের কাক্সিক্ষত সফলতা পাওয়া যাবে না, যতক্ষণ না এর হোতাদের দমন না করা যাবে। যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে, মানুষের অকল্যাণে মাদকের ব্যবসা করেও সমাজের মধ্যমণি হয়ে হয়ে বসে আছে তাদের কালো হাত আগে ভাংতে হবে। দাঁতালের পিঠে সজোরে আঘাত করলে যেই না গুটিয়ে আসে সেই পালের অন্যরা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সেই রূপ মাদক ব্যবসার পালের গোদার পিঠে বাড়ি পড়লে চুনোপুটি মাদক বহনকারীদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাবে না। যদি পালের গোদারা নির্বিঘœ থাকে তা হলে শত প্রতিকুলতার মধ্যেও মাদক তৃণমূলে চলে আসবে। আমাদের কথা হলো মাদকের শীর্ষের শক্তিকে আগে প্রতিহত করা হোক।
পালের গোদা যদি সনাক্ত করা যায় তাহলে এ কথা নিশ্চিত বলা যায় মাদক চোরাচালান অনেকটা বন্ধ হবে।