- শনিবার মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
খরতাপ ছড়িয়ে প্রকৃতি থেকে যাই-যাই করছে বাংলা পঞ্জিকার শেষ মাস চৈত্র। শেষ বেলায় তাই তেতে উঠেছে যশোর। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেনে আগুন ঝরছে। তাপমাত্রার পারদ কেবল উপরেই উঠছে। এতে কয়েক দিন থেকে মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিরাও হাঁসফাঁস করতে শুরু করেছে।
যশোর বিমানবাহিনীর আবহাওয়া অফিস মতে, শনিবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় এ জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের মধ্যে জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বাতাসের আদ্রতা ছিল ৩৩ শতাংশ। এদিন যশোরের পাশের জেলা চুয়াডাঙ্গায় ছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। সেখানে রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এরআগের দিন শুক্রবার যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ছিল ২৭ দশমিক ৬ ডিগি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ছিল ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ।
এদিকে তাপমাত্রার পারদ ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় যশোরে চরম কষ্টে রয়েছেন রোজাদাররা। চৈত্রের খরতাপে নাভিশ্বাস উঠেছে মানুষের। রোজা রেখে খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে আশার খবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আজ যশোরের কোথাও কোথাও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মৃদু তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা যদি ৩৮-৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তবে তাকে বলা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪০-৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে তা হয় তীব্র বা প্রচ- তাপপ্রবাহ। আর ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলে তা হয় চরম বা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। যশোরে বইছে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ।
এদিকে, বাইরে রোদের তীব্র তাপ ও অসহ্য গরমে মানুষ এক প্রকার গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাইরে না বেরিয়ে ঘরে অবস্থান করে ফ্যানের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষ। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে নি¤œআয়ের দিনমজুর ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে। ঈদের আগে তাদের ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। তারা এ তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে ছুটছেন বাইরে।
যশোর শহরের রিকশাচালক মিজানুর রহমান বলেন, রোদ-গরমে রোজা থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এরমধ্যে আবার আমার রিকশা চালিয়ে আয় করতে হয়। তাই বসেও থাকতে পারছি না। বসে থাকলে তো পেটে ভাত জুটবে না।
শার্শার চাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, রোদের কারণে মাঠে কাজ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। মাঠের ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে। জমিতে সেচ দেয়ার পর পরই মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে আজ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
