নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের রানীয়ালি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষা পরিষদ যশোর’-এর উদ্যোগে রানীয়ালি বাজারে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষা পরিষদ যশোরের আহ্বায়ক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে পাঁচ শতাধিক নারী পুরুষ বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মী সেজে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সন্ত্রাসীর কোন ধর্ম বা দল নেই। বক্তারা অনতিবিলম্বে এ সকল সন্ত্রাসীর আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরো নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করা হবে বলেও জানান। এছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষা পরিষদ যশোরের জেলা শাখার সদস্য সচিব ফারাজি আহমেদ সাঈদ বুলবুল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজেদ রহমান বকুল, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করায় চৌগাছা থানা পুলিশের ব্যাপক সমালোচনা করেন এবং ধ্বিক্কার জানান। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যশোর সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল, টিআইবির যশোরের সভাপতি অধ্যক্ষ শাহীন ইকবাল, যশোর জেলা পূজা উদযাপন কমটিরি সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষ, চৌগাছা শাখার সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ মিশ্র জয়, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চৌগাছা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রিন্টু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন স্থানীয় কালীপদ সরকার ভীম নামে একজনের শিশু সন্তানকে বিএনপি চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাহবুব কৃষি মাঠে মারধোর করে। স্থানীয়রা বলছেন, ওই দিন রাতে ভীম ছেলেকে মারের প্রতিবাদ করে। পরের দিন সকালে মাহবুব এলাকার অন্যান্য চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ভীমকে হাতুড়ি লোহার রড দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। পরে ভীম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা শেষে মাহবুবদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করে। পরবর্তীতে সেই সন্ত্রাসীরা আদালত থেকে জামিনে এসে ভীমের জীবনাশের চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে এই আক্রশ ওই গ্রামের পুরো হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে গিয়ে পড়ে। সেই কারণেই স্থানীয় হিন্দুরা যশোর জেলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষা পরিষদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং পূজা উদযাপন কমিটির শরণাপন্ন হন। সে কারণেই ওই জনপদের হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
