চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান উপজেলা মৎস্যজীবি লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের নয়জন পুরুষ সদস্যের মধ্যে সাতজন। ২৭ মার্চ তারা এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন।
লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন ২নং ওয়ার্ডের (গুয়াতলী ও কাঁদবিলা গ্রাম) ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান, ৩নং ওয়ার্ডের (হোগলডাঙ্গা-মাঙ্গিরপাড়া) সদস্য আলী আহম্মদ, ১নং ওয়ার্ডের (চাঁদপাড়া) সদস্য আবু সালাম, ৭নং ওয়ার্ডের (নারায়ণপুর-ইলিশমারী-ভগবানপুর) ওহিদুল ইসলাম ভোদড়, ৫নং ওয়ার্ডের (বড়খানপুর-কিসমতখানপুর) সদস্য সামছুল আলম, ৬নং ওয়ার্ডের (বাদেখানপুর) সদস্য আবু শামীম বাবলু ও ৪নং ওয়ার্ডের (বুন্দেলীতলা) সদস্য হাবিবুর রহমান।
তাদের অভিযোগ নারায়নপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যরা গত ৩ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম অনিয়ম অসদাচরণ করছেন চেয়ারম্যান। তাদের অভিযোগ উপজেলা থেকে প্রেরিত চিঠির গোপনীয়তা রক্ষা করে পরিষদের মিটিং পরিচালনা করেন। টিসিবি কার্ড বন্টনে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিজস্ব পেটোয়া বাহিনীর দ্বারা বিতরণ করেন। জন্মনিবন্ধন সনদ বিতরণে অবৈধ অন্যায়ভাবে অধিক অর্থ আদায় করেন। আদায়কৃত টাকার কোন রশিদ দেন না। সূলভ মূল্যের চাউলের কার্ড ইউপি সদস্যদের সাথে পরামর্শ না করে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করতে ওয়ার্ড হতে কর্তন করেন এবং সেগুলো নিজগ্রামসহ নিজস্ব পেটোয়া বাহিনীর মাঝে বিতরণ করেন। প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে তিনি ঘোর আপত্তি জানান এবং কখনো এ ধরনের আলোচনা করতে গেলে সেই ইউপি সদস্যের প্রতি ক্ষিপ্ত ও রূঢ় আচরণ করেন। ওয়ার্ড সদস্যবৃন্দ সরকার কর্তৃক প্রচলিত নিয়মানুসারে পরিষদ পরিচালনা করতে পরামর্শ বা আলোচনা করতে গেলে সেই ইউপি সদস্যকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করেন এবং অনেক সময় জুতা পেটা করতে চান। যা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত অসম্মানজনক, অপমানজনক ও জীবনের হুমকিস্বরুপ।
এদিকে রবিবার ইউনিয়নের হোগলডাঙ্গা ও মাঙ্গিরপাড়া গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় ১৬ ব্যক্তি চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন যে তারা ১০টাকা কেজি (ফেয়ার প্রাইস) চালের সুবিধাভোগী। সম্প্রতি তাদের নামের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আহাম্মদ জানান, এবিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। চেয়ারম্যান নিজে তার সাথে আলোচনা না করেই এই কার্ড বাতিল করেছেন।
অন্যদিকে গুয়াতলি-কাঁদবিলা গ্রামের ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান বলেন, তার ওয়ার্ডের ফেয়ার প্রাইস তালিকা থেকে গ্রামের প্রায় ২০ জনের নাম বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের হাজরাখানা গ্রামের ২০ জনের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন। একইভাবে চাঁদাপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আবু সালাম বলেন, তার ওয়ার্ডের ফেয়ার প্রাইস তালিকা থেকে ১৪ জনের নাম বাদ দিয়ে ওই তালিকায় চেয়ারম্যানের হাজরাখানা গ্রামের ১৪ জনের নাম ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে প্রবাসী এবং আলীশান বাড়ির মালিকরাও রয়েছেন।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, অভিযোগটি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় নির্দেশ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।