জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: কাজে আসা নিয়ে গেরস্তের সাথে শ্রমিকের বাকবিতণ্ডা এক পর্যায়ে গেরস্তকে ঘুষি। এ অপমান সইতে পারেননি গেরস্ত। বাড়িতে গিয়ে ভাই ও ছেলেকে নিয়ে যান প্রতিবাদ করতে। এরইমধ্যে ওই শ্রমিক তার ভাই ও পরিবারের লোকজন প্রস্তুতি নেয় ‘শায়েস্তা’ করতে। তিনজন যাওয়ামাত্রই হাসুয়া ও দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে গেরস্ত পরিবারের লোকজনকে। এতে মারা যান দুই ভাই। মারাত্মক জখম হন একজন।
বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে ঘটনাটি ঘটে যশোরের চৌগাছা উপজেলার টেঙ্গুরপুর সরদার ব্রিকসের বিপরীতে মুকুল হোসেনের ঝুপড়ি চা’য়ের দোকানে। নিহতরা হলেন- আয়ূব হোসেন খান (৬০) ও ইউনুছ আলী খান (৫৫)। এরা টেঙ্গুরপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান খানের ছেলে। এ সময় মারাত্মক জখম হন আয়ূব হোসেন খানের ছেলে আসাদুজ্জামান খান রনি (৩০)। আহতকে যশোর সদর হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর পরিবারে কান্নার রোল পড়ে। আয়ূব হোসেনের মেয়ে বিলাপ করতে করতে বার বার মূর্ছা যান। নির্বাক হয়ে পড়েন নিহত দুজনের স্ত্রী। এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। আশপাশের লোকজন রাত থেকেই বাড়িতে ভীড় করেন। অনেকে তুচ্ছ ঘটনায় এ ধরণের হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পুলিশ খুনের সাথে জড়িত বিপুল খান (৪০), তার সহোদর মুকুল খান (৩৫), বিপুলের স্ত্রী বিলকিস (৩৫) এবং মা রিজিয়া বেগমকে (৫৫) আটক করেছে। একইসাথে হত্যার কাজে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি চাপাতি ও একটি হাসুয়া দা উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন এবং নিহতদের ছোটভাই শের আলী জানান, একই গ্রামের আফজাল খানের ছেলে বিল্লাল, বিপুল ও মুকুলরা আয়ূব হোসেন ও ইউনূছ আলীদের কাঠগোলা ও ক্ষেতে কাজ করতো। হঠাৎ বিপুল কাজে যেতে না চাওয়ায় বৃহস্পতিবার তারাবি নামাজ পড়ে মুকুলের ঝুপড়ি চায়ের দোকানে যায়। কাজে যেতে না চাওয়ায় সেখানে আয়ূব খানের সাথে বিপুলের কথা কাটাকাটি হয় এবং বিপুল আইয়ূব খানকে তিনটি ঘুষি মারে। তখন আয়ূব খান বাড়িতে গিয়ে মেয়েদের নাম ধরে ডেকে বলেন আমি বৃদ্ধ মানুষ তবুও বিপুল আমাকে মেরেছে। তোমাদের মেঝচাচা (ইউনূছ) ও ভাইকে (আসাদুজ্জামান) ডাকো। এরপর তারা তিনজনই মুকুলের ওই চায়ের দোকানে গিয়ে অপমান করার কারণ জানতে চান। এসময় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকা মুকুল, বিপুল, বিল্লাল, তাদের স্ত্রীরা এবং বাবা আফজাল খান ও মা রিজিয়া বেগমরা মিলে আয়ূব খান, তার ভাই ইউনুছ খান এবং ছেলে আসাদুজ্জামান খান রনিকে চাপাতি ও হাসুয়া দা দিয়ে ইচ্ছেমত কোপাতে থাকে। এতে ইউনূছ খানের দুটি হাত কব্জি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত পেয়ে মারাত্মক আহত হয়ে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা আয়ূব খান ও আসাদুজ্জামান খানকে পুলিশ দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়ূব হোসেন খানের মৃত্যু হয়। মাথায়, কাঁধে ও হাতে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত আসাদুজ্জামান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অপারেশন শেষে তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, লাশ দুটি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলাও করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বিপুল ও মুকুলসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।