যশোর শহরতলীর চাঁচড়া গোলদারবাড়ি এলাকার একটি মবিল কারখানায় তালা লাগিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। অবৈধভাবে ভারতীয় মোতুল কোম্পানির মবিল বোতলজাত করার অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। সম্প্রতি অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠান নকল মবিল তৈরি করে ভারতীয় ব্র্যান্ডের মোতুল কোম্পানির বোতলজাত করে বাজারে বিক্রি করে আসছিল। এতে একদিকে মোতুল কোম্পানির ডিলার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি গাড়ির মালিকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। কেননা নকল মবিলে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়ে থাকে। অভিযানের সময় দেখা যায়, ভারতীয় মোতুলসহ ৩টি ব্র্যান্ডের নামে সেখানে মবিল বোতলজাত করা হচ্ছে। অবৈধভাবে এসব কাজ করা হচ্ছিলো। বোতলজাত করার জন্য সেখানে ৫টি ব্যারেলে মবিল মজুত অবস্থায় দেখা যায়। আরও ৪টি ব্যারেল খালি ছিলো। চাঁচড়া ডালমিল এলাকার সাহেব আলী ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক ।
আজকাল খাঁটি জিনিস পাওয়ার উপায় নেই। আসলে খাঁটি মানুষও নেই। এ কারণে কোন কিছু খাঁটি পাওয়া যাচ্ছে না। যশোরের অভয়নগরসহ বিভিন্ন স্থানে নকল খেজুরের গুড় তৈরি হচ্ছে। সুন্দরবন এলাকায় ব্যারেল ব্যারেল নকল মধু তৈরি হচ্ছে। অবস্থাটা এমন যে কোন অবস্থাতেই এক ফোটা খাঁটি মধু পাওয়ার উপায় নেই। ঝিকরগাছায় তৈরি হচ্ছে নকল আখের গুড়। দোকানে দানাযুক্ত আকর্ষণীয় যে গুড় পাওয়া যায় তার দাম কম। দেখতে ভালো নয় সে গুড়ের দাম যেখানে ১৮০ টাকা সেখানে দানাযুক্ত দৃষ্টিধারী গুড়ের দাম ১২০ টাকা। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে বেরিয়ে এসেছে আসল রহস্য। নকল পণ্য তৈরিকারকদের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু থেমে নেই তাদের অপতৎপরতা।
মানুষ নকল ভোজ্য জিনিস খেয়ে রোগাক্রান্ত হচ্ছে। মধু অনেক রোগের ওষুধের সহযোগী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার শুধু মধু সেবনও স্বাস্থ্যকর। কিন্তু মধুর নামে যা খাওয়া হচ্ছে তাতে রোগ সারা তো দূরের কথা রোগ সৃষ্টির আশংকা থাকে পুরোমাত্রায়। মবিলে ইঞ্জিন ঠা-া রাখে ও স্থায়ীত্ব বাড়ায়। কিন্তু নকল মবিলে হয় বিরূপ প্রতিক্রিয়া। এতে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয় অস্বাভাবিকভাবে। জনস্বাস্থ্য এবং ইঞ্জিনের এই ক্ষতির কাজে যারা যুক্ত তাদের কোন ক্রমেই ছাড় দেয়া উচিত নয়। তাহলে একদিন দেখা যাবে আমরা রোগাক্রান্ত পঙ্গু জাতিতে পরিণত হয়েছি। আর গাড়ি কিনে বিত্তবানরা বিত্তহীনে পরিণত হচ্ছে।
