আইটি পার্কে সমন্বিত প্রশাসনিক কেন্দ্রের পরিকল্পনা; তেলে রেশনিং নেই, জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় কঠোর নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সরকারি দপ্তরগুলোকে একই এলাকায় এনে একটি সমন্বিত প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মূলত জনভোগান্তি কমানো এবং নাগরিকদের জন্য সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজ করতে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সভায় জানানো হয়, যেসব সরকারি অফিসের নিজস্ব ভবন বা জায়গা নেই, সেগুলোকে একই স্থানে স্থানান্তরের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্য শহরের প্রায় অব্যবহৃত বিশাল যশোর আইটি পার্ক এবং এর আবাসিক ভবনকে প্রাথমিক স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে কোন অফিসের জন্য কতটুকু জায়গা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত অফিসগুলো স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক আরও জানান, যশোরে জ্বালানি তেলের কোনো রেশনিং পদ্ধতি চালু হবে না। দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে। ফলে পেট্রোল বা ডিজেল সংগ্রহে সাধারণ মানুষকে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না। তবে কোনো ফিলিং স্টেশন যদি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বা তেল মজুত রেখে গ্রাহককে ফিরিয়ে দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো হবে। প্রয়োজনে জরিমানা ও কারাদণ্ডসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসন্ন বর্ষায় শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মুক্তেশ্বরী নদীর তলদেশ নিচু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদীর সংযোগস্থলে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা আবাসিক ভবন ও স্থাপনা উচ্ছেদে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নদীর সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হবে। স্বেচ্ছায় সরে না গেলে আইন প্রয়োগ করে উচ্ছেদ করা হবে।
এছাড়া আসন্ন ঈদে যশোর–খুলনা মহাসড়কে যানজট নিরসনে সড়ক বিভাগকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদ পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখা এবং সড়কের পাশে নির্মাণ সামগ্রী না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে রাতে মাইক্রোবাস বা প্রাইভেটকারে অপ্রয়োজনীয় চলাচল পরিহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো জরুরি সেবার জন্য ১০২ বা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। ঈদ উপলক্ষে তাদের সকল কর্মীর ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সরকারি-বেসরকারি অফিস ও এনজিওগুলোকে নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কার্যালয় বা বাসাবাড়িতে মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। অভিযানের ছবি ও ভিডিও প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রোববার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসাইন শাফায়েতসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
