নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে জমি ও ঘের দখল এবং জীবননাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বাঘারপাড়া উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিধ প্রয়াত মকছেদ আলী খানের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন প্রেসক্লাব বসুন্দিয়ায় এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, মকছেদ আলী খান জীবিত থাকাকালিন তার নিজস্ব এক একর ৩৪ শতক জমি একই গ্রামের জলিল সরদারের ছেলে জামাল সরদার চুক্তিপত্রের মাধ্যমে বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে আসছিল। দীর্ঘ বছর পর সকলের অজান্তে একই গ্রামের সেলিম খানের জামাতা ফরিদুজ্জামানকে নতুন চুক্তিপত্রের মাধ্যমে জামাল সরদার উক্ত জমি চাষাবাদের জন্য হস্তান্তর করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হয়। জটিলতা নিরসনে উভয়পক্ষ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে একাধিক সালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকে বারবার মোকছেদ আলী খানের সন্তানদের নিকট চুক্তিপত্রসহ জমি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় কিন্তু জামাল সরদার ও সেলিম খান টালবাহানা ও কালক্ষেপণ করে পরিবেশ ঘোলাটে করে। একপর্যায়ে মোকছেদ আলী খানের কন্যা সাবিনা ইয়াসমিনের তত্ত্বাবধানে জমি চাষাবাদ শুরু হয়।
জমি চাষাবাদ ও দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা ইকরামুলের উপর হামলা করে জামাল সরদার ও সেলিম খানের নেতৃত্বে। এই ঘটনায় একরামুল বাঘারপাড়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অপরদিকে জমিতে থাকা মাছের ঘের দখলে নেয়ার চেষ্টা এবং পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করর অভিয়োগে সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বাঘারপাড়া থানায় অভিযোগ করেন। ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে মৎস্য ঘেরের পার্শ্ববর্তী একরামুলকে মারপিট করে আসামিরা। এই ঘটনায়ও সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে জামাল সরদারের বিরুদ্ধে বাঘারপাড়া থানায় আরো একটি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন প্রাণনাশের হুমকি ও জবর দখলের অপচেষ্টায় থানায় মামলা করার পরও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন। দিনদিন ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে চলেছে বিবাদীরা। পুলিশের নেই কোন ভূমিকা। এখন সাবিনা ও একরামুলের পরিবার নিয়ে জীবন শঙ্কায় রয়েছেন। এই ব্যাপারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি করা হয়েছে।
